কঙ্গোর খনিতে ভয়াবহ ভূমিধস, নিহত দুই শতাধিক

গণতান্ত্রিক কঙ্গো মধ্য আফ্রিকার দেশ অবস্থিত একটি কোলটান খনিতে ভয়াবহ ভূমিধস ঘটেছে, যাতে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এখান থেকে বিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ কোলটান সরবরাহ হয় বলে দেশটির খনি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন শিশু রয়েছে।
খবর অনুযায়ী, নর্থ কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টির কারণে খনিতে মাটি ধসে পড়ে। ওই সময় খনির ভেতরে ও আশপাশে বহু শ্রমিক কাজ করছিলেন, যারা মুহূর্তের মধ্যে মাটির নিচে চাপা পড়েন। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার করেছেন এবং আহতদের নিকটবর্তী শহর গোমার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খনি এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে। তাদের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এটি ভূমিধস নয়, বরং একটি বোমা হামলার ঘটনা এবং এতে মাত্র পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তবে খনিতে কর্মরত এক শ্রমিকের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি উদ্ধার অভিযানে সরাসরি অংশ নিয়েছেন এবং প্রকৃত মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক।
রুবায়া অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কোলটান উৎপাদন কেন্দ্র। কোলটান থেকে তৈরি ট্যান্টালাম আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান ও গ্যাস টারবাইনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত হয়।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে একই এলাকায় আরেকটি খনি ধসে দুই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। কঙ্গো সরকার সেই দুর্ঘটনার পর অভিযোগ করেছিল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া অবৈধ খনন কার্যক্রমের কারণে এমন ঘটনা ঘটছে।
খনি নিরাপত্তা ও শিশু শ্রমের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। রুবায়ার খনি দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাজারের জন্যও উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







