• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৫ মার্চ ২০২৬, ১০:১৮ এ.এম.
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-ছবি-ভিওডি বাংলা

আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উপলক্ষে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সহায়তা সহজলভ্য করতে সরকার এ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে।

বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় কৃষি খাতে সরকারি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড চালুর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম সমন্বয় করবে।

সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসসচিব বলেন, কৃষক কার্ড শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি দেশের প্রতিটি কৃষকের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি সুবিধা প্রদান করা হবে।

তিনি  জানান, কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি পাওয়ার সুবিধা থাকবে। কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্য, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং কৃষি বীমা সুবিধাও এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ পাবেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া, বাজার পরিস্থিতি ও কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যও তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সুবিধা শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং দুগ্ধ খামারিরাও কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন। এর ফলে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক খাতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশাজীবী সরাসরি সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রেসসচিব জানান, কর্মসূচির প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর পরীক্ষামূলকভাবে দেশের আট বিভাগের নয়টি উপজেলার নয়টি ব্লকে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।

নির্বাচিত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে-টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ। এসব এলাকায় প্রথম ধাপে কর্মসূচির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ, নিবন্ধন এবং কার্ড বিতরণের কাজ পরিচালনা করবেন।

এ কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তারা গড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি অথবা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন।

এ ছাড়া খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

প্রেসসচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকার মনে করছে, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও সহজলভ্য হবে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে ডিজিটাল তথ্যভান্ডার গড়ে ওঠার ফলে কৃষি ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাও আরও কার্যকর হবে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন কর্মক্ষেত্রে ড. ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন কর্মক্ষেত্রে ড. ইউনূস
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে: চিফ প্রসিকিউটর
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে: চিফ প্রসিকিউটর
জনগণের ভোগান্তিকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী
জনগণের ভোগান্তিকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না: গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী