মধ্যপ্রাচ্যে সর্ববৃহৎ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। বুধবার (৪ মার্চ) চালানো এ হামলার বিষয়টি কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জরুরি বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে।
গত শনিবার ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর এটি কোনো বড় মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের প্রথম সরাসরি এবং সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি দেশটির নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই ভূপাতিত করে। তবে অপর ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি আল-উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটির ভেতরে আঘাত হানে।
এই ঘাঁটিটি অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। হামলার পর সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি কাতার কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর দেশটির ওপর ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে।
ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দিয়েছিল, তারা মার্কিন এই ‘বর্বরতা’র জবাব দেবে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই প্রতিশোধের অংশ।
তেহরান সূত্র জানিয়েছে, কেবল কাতার নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
উল্লেখ্য, আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি এই অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকেই সিরিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন বিমান অভিযান পরিচালিত হয়। ঘাঁটিটিতে স্থায়ীভাবে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
ভিওডি বাংলা/এমএস







