• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

স্পিকার ও রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যারা

রেজাউল করিম হীরা    ৪ মার্চ ২০২৬, ০২:১৮ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধ্বস জয় লাভ করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নতুন মন্ত্রিসভায় ঠাই হয়নি অনেক প্রবীণ নেতার। তবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনো কাউকে মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি। ফলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে- রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে কে আসছেন। 

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কৌশলেও পারদর্শী- এমন দুজনকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ জন্য দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর নাম আলোচনা রয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, এই দুজনই রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ এবং রাজনৈতিকভাবেও গ্রহণযোগ্য। বিএনপির আগের মন্ত্রিসভায় ছিলেন তারা। এছাড়া বিগত সময়ে দলীয় নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকায় বিভিন্ন সময় সরকারের জুলুম নির্যাতনের শিকার হন। এই পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও রয়েছে আলোচনায়। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে এ তিনজনের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।  

নবগঠিত মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রী পদ মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন নজরুল ইসলাম খান। তবে আলোচনায় থাকা খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। 

সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাদের নাম বিবেচনায়—জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আলোচনা কেন? সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ তো শেষ হয়নি।’

দলটির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন- সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক ও বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দুজনেরই সংসদীয় কার্যপ্রণালির বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। হাফিজ উদ্দিন আহমদ ছয়বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওসমান ফারুকও সংসদ বিষয়ে অভিজ্ঞ।

এর বাইরে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের নামও আলোচনায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আইন পেশায় দীর্ঘ সম্পৃক্ততা এবং সংবিধান ও সংসদীয় বিধিবিধান বিষয়ে দক্ষতার কারণে আলোচনায় আছেন তিনিও।

স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্পিকার হওয়ার মতো যোগ্য বেশ কয়েকজন নেতা বিএনপিতে আছেন, যেমন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান ও জয়নুল আবেদীন।

আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসছে। ওই অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। এ দুই পদের যে কোনোটি শূন্য হলে সাত দিনের মধ্যে অথবা ওই সময়ে সংসদ বৈঠকরত না থাকলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তা পূরণ করতে হবে।

গত সোমবার ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী থেকে একজনকে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় বিএনপি।
দলের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এদিন সাংবাদিকদের জানান,  জুলাই জাতীয় সনদের সমঝোতার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে একজনকে নেওয়া হবে। এ জন্য প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে।

জামায়াত সূত্রে জানা যায়, ডেপুটি স্পিকার পদে এখন পর্যন্ত ৪ জন সংসদ সদস্যের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর বাইরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মৌখিকভাবে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। জামায়াতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে আলোচনায় আছেন পাবনা-১ আসন থেকে বির্বাচিত নাজিবুর রহমান মোমেন, ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, কুড়িগ্রাম-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী এবং পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত মাসুদ সাঈদী। তাদের মধ্য থেকে কাউকে ডেপুটি স্পিকার পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। সাধারণত জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এ শপথ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন স্পিকার শপথ নেওয়ার পর তাঁর সভাপতিত্বে ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনও হতে পারে।

রাষ্ট্রপতিও সংসদ সদস্যদের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। ফলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে এ পদেও সরকারি দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়ে ওঠে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসেন জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে। ইতিমধ্যে সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপ নির্বাচন করেছে বিএনপি।  ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের  আগে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে। তবে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনায় চলছে-কারা আসছেন রাষ্ট্র ও সংসদের শীর্ষ পদে।  

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রতিপক্ষ তারেক রহমানেও নির্ভার জামায়াত
প্রতিপক্ষ তারেক রহমানেও নির্ভার জামায়াত
বিএনপির ডিজিটাল প্রচারে গুরুত্ব ‘আট কার্ডে’
বিএনপির ডিজিটাল প্রচারে গুরুত্ব ‘আট কার্ডে’
ভোগান্তির নাম জন্ম নিবন্ধন
ভোগান্তির নাম জন্ম নিবন্ধন