আবদুস সালাম:
মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতায় এক মাসব্যাপী অভিযান শুরু

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-এর প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, নগরের পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
রোববার (১ মার্চ) রাজধানীর সুখনগর ব্রিজ, মান্ডায় মশক নিধন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, কোনো এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বা মশক নিধন কার্যক্রম না হলে স্থানীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সিটি করপোরেশনকে জানাবেন। কোথাও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলে বা মশা নিয়ন্ত্রণে কর্মীরা না গেলে তা দ্রুত জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, বর্তমানে ওই এলাকায় নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় স্থানীয়ভাবে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন বা দু’জন প্রতিনিধি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন এবং সমস্যা সম্পর্কে অবহিত করবেন।
সিটি করপোরেশনের বর্তমান আর্থিক অবস্থার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, সব রাস্তা একসঙ্গে সংস্কার করা সম্ভব নয়, কারণ পর্যাপ্ত অর্থ নেই। বর্জ্য অপসারণের জন্য ব্যবহৃত গাড়িগুলোও অনেক ক্ষেত্রে সচল রাখা যাচ্ছে না। টায়ারের অভাবসহ নানা কারণে অনেক জায়গায় এসব গাড়ি যেতে পারছে না।
এলাকার উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ আনার বিষয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিবকে জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়ে বরাদ্দ আনতে হবে। সিটি করপোরেশন এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে, যাতে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, জনগণ তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী এবং হাবিবুর রশিদ হাবিবকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন-তাদের সফল করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রমে সবাইকে অংশ নিতে হবে।
তিনি বলেন, এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়ক সংস্কার, স্ট্রিট লাইট সচল রাখা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোথাও স্ট্রিট লাইট বন্ধ থাকলে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনকে জানাতে বলা হয়।

মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এক মাসব্যাপী পরিচালিত হবে জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, এদিন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। আগে নগর পরিচালনায় দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব ছিল, তবে এখন দায়িত্ব পাওয়ার পর নিয়মিতভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
কার্যক্রমের তদারকির জন্য সিটি করপোরেশন ইতিমধ্যে ১০টি দল গঠন করেছে বলে জানান প্রশাসক। এসব দলে আঞ্চলিক কর্মকর্তা ছাড়াও তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। কোথাও কার্যক্রমে ব্যর্থতা দেখা দিলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।
এ ছাড়া সার্বিক তদারকির জন্য সিটি করপোরেশনের প্রধান কর্মকর্তা ও সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং পুরো কার্যক্রমের ওপর প্রশাসক নিজেও নজর রাখবেন বলে জানান তিনি। জনগণের সেবা করাই তাদের দায়িত্ব। জনগণ যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালনে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হবে।
এ সময় সড়ক ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/জা







