ভূমিকম্প মোকাবিলায় নতুন নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

চলতি ফেব্রুয়ারির ২৫ দিনে দেশে মোট আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিগত কয়েক মাসে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ভূমিকম্প প্রবণতা। সর্বশেষ বুধবার রাতে আঘাত হানে ৪ দশমিক ১ মাত্রা ভূমিকম্প। কিন্তু ঘন ঘন এই ভূমিকম্প কিসের ইঙ্গিত?
এ অবস্থায় ভূমিকম্পের ভয়াবহতা মোকাবিলায় ঢাকা মহানগরীতে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব (দুলু)।
মন্ত্রী জানান, ভূমিকম্পের পর প্রাথমিকভাবে আশ্রয়ের জন্য শহরের খেলার মাঠ এবং স্কুলগুলো চিহ্নিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
পাশাপাশি ভূমিকম্পের সময় এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব (দুলু)। এই সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে আগামী ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
চলতি মাসের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ভূকম্পন অনুভূত হয় প্রথম দিনেই (১ ফেব্রুয়ারি)। সেদিন ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩। আর এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট শহর থেকে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।
এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পরপর দু’টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যেগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে। ওই দু’টি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ এবং ৫ দশমিক ২।
একইদিন ভোর ৪টা ৩৬ মিনিট আরেকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা, যা ঢাকা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
এর পর এক এক সপ্তাহ পার না হতেই আবার ৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দু’টি কম্পন অনুভূত হয়। এ দু’টি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৩ এবং ৪।
১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে আবার সিলেট অঞ্চলে ভূকম্পন অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা। এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে সর্বশেষ বুধবার পর্যন্ত দেশে মোট আটবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ঘন ঘন এই ভূমিকম্পের ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সবশেষ বুধবার রাত ১০টা ৫১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে যে ভুমিকম্পটি অনুভূত হয়, সেটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারে।
ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে আঘাত হানে ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। যার কম্পন বাংলাদেশেও অনুভূত হয়।
অন্যদিকে ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ইউটিসি সময় ১৬টা ৫১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ২৩.০৩১ অক্ষাংশ ও ৯৪.৭৪৪ দ্রাঘিমাংশে। এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০১ কিলোমিটার।
সবশেষ ভূকম্পনটি অনুভূত হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরা জেলা থেকে মাত্র ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাটির নিচে মাত্র ৯.৮ কিলোমিটার, যা অগভীর হওয়ার কারণে কম্পন বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছে।
সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে সবশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ১০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ঘন ঘন এই ভূমিকম্পের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে গত ২১ নভেম্বর দেশে বড় ধরনের একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। সেসময় ঢাকাসহ সারাদেশে ১০ জন মারা যান, আহত হন ছয় শতাধিক। পাশাপাশি অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভিওডি বাংলা/জা






