রামেবি
১ হাজার কোটির স্থাপন প্রকল্পের ৪ দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (রামেবি) স্থাপন প্রকল্পের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা মূল্যের চারটি দরপত্রে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টেক) গঠনে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট দরপত্র বাতিল ও কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংক্ষুব্ধ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাবাস্সুম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হান্নান বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার এবং দুর্নীতি দমন কমিশন-এর রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় ইজিপি পদ্ধতিতে চারটি দরপত্র (নম্বর: ১১৬৫৩৭৪, ১১৬৫৪৮৫, ১২১২২৬০ ও ১২০৮৪৪৩) আহ্বান করা হয়। এসব কাজ মূল্যায়নের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়। তবে একই প্রকল্পের ক্রয় পরামর্শক রেজাত হোসেন রিটুকে কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পিপিআর-২০২৫ এর ১১(৫) বিধির পরিপন্থি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বিধি অনুযায়ী, কেবল সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হতে পারেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রেজাত হোসেন রিটু বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা নন; তিনি প্রকল্পের চুক্তিভিত্তিক বহিরাগত পরামর্শক। ফলে তাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা বিধিবহির্ভূত।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পিপিআর-২০০৮ ও পিপিআর-২০২৫ অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবার ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়িয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রকল্পের ক্রয় পরামর্শককে মূল্যায়ন কমিটিতে রাখলে স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঝুঁকি তৈরি হয়। কারণ তিনি দরপত্র প্রস্তুত, টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন প্রণয়ন, প্রাক্কলন ও ক্রয় পরিকল্পনায় সরাসরি সম্পৃক্ত।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট পরামর্শকের বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ চলমান রয়েছে এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও আছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রায় এক হাজার কোটি টাকার দরপত্রে এমন ব্যক্তিকে সদস্য রাখলে স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এসব বিবেচনায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি পুনর্গঠন ও সংশ্লিষ্ট দরপত্র বাতিল করে নতুন করে আহ্বানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডা. হাসিবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট টেন্ডারগুলোর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) উপাচার্য নিজেই। তাই এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
মতামতের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিওডি বাংলা/মোঃ রমজান আলী/আ







