ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কা, ইসরায়েলে এফ-২২ যুদ্ধবিমান মোতায়েন

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-২২ স্টিলথ ফাইটার জেট মোতায়েন করা হয়েছে। এই যুদ্ধবিমানগুলো আগে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের লেকেনহিথ ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল এবং সেখান থেকে সরাসরি ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে।
অবশেষে কয়েক দিনের মধ্যে ওই অঞ্চলে কয়েক ডজন মার্কিন যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার এবং শত শত কার্গো বিমানের চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা এটিকে ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি হিসেবে দেখছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সতর্ক করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে তিনি সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবেন না। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “প্রয়োজনে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহার করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”
বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরান সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আলোচনায় বসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনী সহজেই জয়ী হবে, যদিও প্রশাসনের ভেতরে সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে নানা বিশ্লেষণ চলছে।
অপরদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সফলতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, দেশটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর মার্কিন হামলা প্রায় অনিবার্য। একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, “ইরান যদি সত্যিই কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানে রাজি হয়, তা হবে বছরের সবচেয়ে বড় বিস্ময়।”
ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছে, আলোচনার নামে তেহরান যেন সময় নষ্ট না করতে পারে। পাশাপাশি, দেশটির সামরিক নেতৃত্ব ইরানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন, যাতে তেহরান পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা হারায়।
ইরানও প্রতিক্রিয়ায় তাদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দক্ষিণ উপকূলে বিস্তৃত মহড়া পরিচালনা করছে, যেখানে ড্রোন, মর্টার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্র ও উপকূলের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের কৌশল প্রদর্শন করা হচ্ছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি জানিয়েছেন, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়, তবে কোনো ধরনের আগ্রাসন হলে “কঠোর প্রতিরোধ” গড়ে তোলা হবে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক অধিকার কখনো ছাড়বে না এবং মার্কিন পদক্ষেপকে বিপজ্জনক জুয়া হিসেবে বিবেচনা করছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ভিওডি বাংলা/এমএস







