• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ব্রাজিলে টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ২৩, নিখোঁজ ৪০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৯ এ.এম.
টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত মিনাস গেরাইস রাজ্য; ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের খুঁজছে উদ্ধারকর্মীরা-ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস গেরাইসে টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অন্তত ৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera জানায়, উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা দুর্যোগ-প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর এবং আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে মিনাস গেরাইসের জুইজ ডি ফোরো পৌরসভায়। রাজ্যের সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, এ শহর থেকেই এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শহরটি Rio de Janeiro থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।

জুইজ ডি ফোরোর মেয়র মার্গারিদা সালোমাও জানিয়েছেন, প্রবল বর্ষণের ফলে এলাকায় অন্তত ২০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। বহু বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৪০ জন মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মঙ্গলবার সকালে একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এ ঘটনা স্বজনহারা পরিবারগুলোর মধ্যে সামান্য আশার সঞ্চার করেছে। তবে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্বেগ কাটেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন।

জুইজ ডি ফোরোর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উবা শহরেও অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পুরো অঞ্চলে নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় কাদা ও পলিমাটির স্তূপে অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।

ব্রাজিলের ফায়ার ব্রিগেডের মেজর ডিমেট্রিয়াস গৌলার্ট আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা Agence France-Presse-কে জানান, সোমবার রাতে প্রবল বর্ষণের সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় নিজ নিজ বাড়িতে ছিলেন। আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে তারা প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি।

মেয়র সালোমাও এই পরিস্থিতিকে তার প্রশাসনের “সবচেয়ে দুঃখজনক দিন” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, মাত্র চার ঘণ্টায় ১৮০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসকে এ অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে আর্দ্র মাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট Luiz Inácio Lula da Silva ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য এখন মানুষের জীবন রক্ষা, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা প্রদান এবং দ্রুত মৌলিক সেবা পুনরুদ্ধার করা।

বর্তমানে মিনাস গেরাইস ফায়ার সার্ভিসের শতাধিক কর্মকর্তা উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস ও নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা উদ্ধারকর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ততক্ষণ পর্যন্ত বিপর্যস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ইরানে বাজারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪
ইরানে বাজারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪
লখনউয়ে ডাক্তারি পড়তে চাপ দেওয়ায় বাবা খুন
লখনউয়ে ডাক্তারি পড়তে চাপ দেওয়ায় বাবা খুন
ভারতের ঝাড়খণ্ডে ৭ আরোহী নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত
ভারতের ঝাড়খণ্ডে ৭ আরোহী নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত