ট্রাম্পের নতুন বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর হলো ১০ শতাংশ হারে

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ঘোষণার ঝড় তুললেও শেষ পর্যন্ত ১০ শতাংশ হারের বৈশ্বিক শুল্কই কার্যকর করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হয়েছে বলে সরকারি নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের একাধিক আমদানি শুল্ক স্থগিত করলে তিনি বৈশ্বিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। পরদিন শনিবার সেই হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার হুমকিও দেন। তবে শেষ পর্যন্ত বাড়তি হারের কোনো নির্দেশনা জারি হয়নি।
প্রশাসন জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এ ধারায় কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৫০ দিন পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর রাখার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে।
গত শুক্রবার জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, এই অস্থায়ী ১০ শতাংশ আমদানি শুল্কের উদ্দেশ্য হল, “আন্তর্জাতিক অর্থ পরিশোধের মূল সমস্যাগুলো আমলে নেওয়া এবং দেশের কৃষক, শ্রমিক ও উৎপাদকদের সুবিধা দেওয়ার জন্য বাণিজ্য সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে প্রশাসসনের কাজ চালিয়ে যাওয়া।”
ট্রাম্পের দাবি, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে শুল্ক আরোপ অপরিহার্য। তবে পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারে।
এর আগে ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ)-এর আওতায় শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ১৩০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার এক রায়ে জানায়, ট্রাম্প তার এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করে ওই শুল্ক আরোপ করেছেন। ফলে তা বাতিল করা হয়।
আদালতের এ সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর কাছে আদায়কৃত শুল্ক ফেরত দেওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। রায়ের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের একটি শুল্কবিরোধী সংগঠন সম্পূর্ণ অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি তোলে। ‘উই পে দ্য ট্যারিফ’ ক্যাম্পেইন গ্রুপ দ্রুত সব অর্থ ফেরতের আহ্বান জানিয়েছে।
তবে প্রশাসন আদৌ অর্থ ফেরত দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ ট্রাম্প নিজেই গত শুক্রবার বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে ‘আগামী পাঁচ বছর’ আদালতে আইনি লড়াই চলবে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







