মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ যুদ্ধজাহাজ, আসছে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী

ইরান ইস্যুতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠাচ্ছে। ইরানের সামরিক কার্যক্রম এবং সম্প্রতি সৃষ্ট বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বুধবার অল্প সময়ের জন্য মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলের কাছে অবস্থান প্রকাশ করে। ৪৮ মিনিটের জন্য উন্মুক্ত থাকা এই তথ্য অনুযায়ী, রণতরীটি ভূমধ্যসাগরের দিকে এগোচ্ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত এটি জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। বরং জাহাজটির সঙ্গে যুক্ত একটি বিমান বৃহস্পতিবার আবার আটলান্টিকের দিকে ফিরে যায়।
মঙ্গলবার মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা সুইজারল্যান্ডে দ্বিতীয় দফার বৈঠক করেন, যেখানে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, “সম্ভবত, আগামী ১০ দিনের মধ্যে বিশ্ব জানতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেবে।”
এর আগে সোমবার বিবিসি ভেরিফাই ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ইরান থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে ওমান উপকূলের কাছে শনাক্ত করে। উভয় রণতরী—জেরাল্ড আর ফোর্ড ও আব্রাহাম লিংকন—একাধিক গাইডেড মিসাইলবাহী ডেস্ট্রয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের নেতৃত্ব দেয়। প্রতিটি জাহাজে ৫,৬০০-এর বেশি নাবিক এবং বহু যুদ্ধবিমান থাকে।
বিবিসি ভেরিফাই-এর তথ্যানুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ১২টি মার্কিন জাহাজ মোতায়েন রয়েছে, যার মধ্যে আব্রাহাম লিংকনসহ তিনটি আরলি বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার এবং একাধিক বিশেষায়িত যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক বিমান মোতায়েন রয়েছে, যেমন এফ-৩৫, এফ-২২, কেসি-১৩৫, কেসি-৪৬ রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার ও ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান।
ইরানও সামরিক প্রস্তুতি দেখিয়েছে। সোমবার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক মহড়া চালায়, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্যও প্রচার করা হয়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ এবং ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপও এই রাস্তায় অবস্থিত। বৃহস্পতিবার ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়ার ফুটেজ দেখানো হয়।
সামরিক বিশ্লেষক জাস্টিন ক্রাম্প বিবিসি ভেরিফাইকে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক প্রস্তুতি গত বছরের ভেনেজুয়েলা অভিযানের তুলনায় অনেক বড় ও টেকসই। এটি কেবল হামলার প্রস্তুতি নয়; বরং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যা পরিস্থিতি অনুযায়ী বৃদ্ধি বা হ্রাস করা যায়।”
মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৮০০টি বিমান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করতে পারছে, যা ইরানের কোনো সম্ভাব্য পাল্টা হামলার প্রভাব শূন্য করতে সক্ষম।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে তার কূটনৈতিক চাপ ও সামরিক উপস্থিতি উভয়ই বৃদ্ধি করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও তীব্র করছে।
ভিওডি বাংলা/এসএস







