বাজারে সিন্ডিকেট, নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জামায়াতের

রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার তদারকি আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তাই বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয় হতে হবে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মপরিষদ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত-এর আমির।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
রমজানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মাহে রমজান আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন, সংযম ও সহমর্মিতার মাস। এ সময় সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, সততা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রয়োগ করা গেলে ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। বাজারে অস্থিরতা, অসাধু মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে কার্যকর বাজার মনিটরিং, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
রমজানের তাৎপর্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মাসের মূল শিক্ষা তাকওয়া, ধৈর্য, ত্যাগ ও মানবিকতা। তিনি বিত্তবানদের প্রতি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো, যথাযথভাবে জাকাত ও ফিতরা আদায় এবং সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানান। সব বিভেদ ভুলে দেশ ও জাতির কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন।
সভা শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, রমজানের বরকতে দেশবাসীর জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ নেমে আসুক এবং অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি দূর হোক।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মোহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুস, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এ কে এম ফজলুল হক ও ডা. সিদ্দিকুর রহমান।
ভিওডি বাংলা/এমএস







