• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

জিয়াউল আহসান ‘সিরিয়াল কিলার’: সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪২ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান-কে একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ আখ্যা দিয়েছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। এমনকি তার পদোন্নতির বিরোধিতাও করেছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান। কিন্তু পদোন্নতি বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য তাকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করে পদোন্নতির সুপারিশ করেছিলেন বলে জানান তিনি।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জিয়াউল আহসানের আইনজীবীদের জেরার সময় এসব কথা বলেন ইকবাল করিম ভূঁইয়া। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ জেরা হয়। এ প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন-বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জিয়াউল আহসানের পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো। তিনি জানতে চান সেনাপ্রধান থাকাকালে ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জিয়াউল আহসান কতটি পদোন্নতি পেয়েছেন।

জবাবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানান, ওই সময়ে তিনি মাত্র একবার পদোন্নতি পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে।

আইনজীবী জানতে চান, এই পদোন্নতির পক্ষে কতজন সুপারিশ করেছিলেন।

উত্তরে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য মতামত দিয়েছিলেন। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই জিয়াউল আহসানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে তিনি দাবি করেন, অনেক সদস্যই ভবিষ্যৎ স্বার্থ বিবেচনায় মত দিয়েছেন।

জেরার একপর্যায়ে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, তিনি তৎকালীন মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন জিয়াউল আহসান একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ এবং তিনি তার পদোন্নতির পক্ষে নন। মোমেন সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করলেও, অধিকাংশ সদস্য তাকে ‘ভালো কর্মকর্তা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পদোন্নতির সুপারিশ করেন। 

তিনি আরও বলেন, জিয়াউল আহসান কখনোই ভালো কর্মকর্তা ছিলেন না। সেনাবাহিনীতে সাধারণত স্টাফ কলেজ সম্পন্ন না করলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। কিন্তু জিয়াউল আহসান স্টাফ কলেজ করার যোগ্যতা অর্জন করেননি এবং কোর্সও করেননি। এমনকি তিনি ব্যাটালিয়ন কমান্ডও করেননি, যা কর্নেল পদে পদোন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা।

গুম-খুনের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভুঁইয়ার আংশিক জেরা সম্পন্ন হয়। বাকি জেরা ২৩ ফেব্রুয়ারি হবে।

এ মামলায় একমাত্র আসামি হওয়ায় জিয়াউল আহসানের পক্ষে লড়ছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, নাজনীন নাহার ও আইনজীবী নিজাম। আসামিপক্ষের এই আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। পরে জেরার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসানের বেপরোয়া আচরণ তুলে ধরেন ইকবাল করিম। একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা র‌্যাবে গিয়ে পেশাদার খুনি হয়ে ফিরে আসতেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি। এছাড়া সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তর বর্ণনা করেন সাবেক এই সেনাপ্রধান।

এদিকে, আজ সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ।

গত ১৪ জানুয়ারি জিয়াউলের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এ মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথমটি হলো- ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পূবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ আরও তিনজনকে হত্যা। দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের: তারেক রহমান
অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের: তারেক রহমান
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য
জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য
আমি তো নিজের ইচ্ছায় মন্ত্রী হইনি: খলিলুর রহমান
আমি তো নিজের ইচ্ছায় মন্ত্রী হইনি: খলিলুর রহমান