সরকারের আকার ছোট হচ্ছে, বিএনপি'র মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন কারা?

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারপার্সন তারেক রহমান নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভার চেহারা এবং সদস্যদের নাম নিয়ে জনগণের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণ, সমমনা দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব এবং নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে বিজয়ীদের পক্ষে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার আকার বা সদস্যদের নাম ঘোষণা করেনি।
মৌলিকভাবে, তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা পূর্ববর্তী সরকারের তুলনায় ‘ছোট’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে ৪৩-এর পরিবর্তে ৩০-এর নিচে নামানোর পরিকল্পনা করছেন। মন্ত্রণালয় কমালে সরকারের কাজের সহজতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই খাতের মন্ত্রণালয়গুলো একত্র করা হলে, উদাহরণস্বরূপ, সড়ক পরিবহন ও রেল একটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসতে পারে।
বিএনপি সূত্র জানায়, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা হতে পারে ৩৫–৩৭। এর মধ্যে ২৬–২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ৯–১০ জন প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন। শেষ মুহূর্তে আরও একজন বা দুজন যোগ হতে পারে। তুলনামূলকভাবে, ২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভা ছিল ৬০ সদস্যের, যা তখন রাজনৈতিক বিতর্কের কারণ হয়েছিল।
মন্ত্রিসভার গঠন হবে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে। অভিজ্ঞ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পাবেন, আর মেধাবী তরুণরা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হতে পারেন। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং অন্যান্যদের নিয়ে।
নারীদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সেলিমা রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ আলোচনায় রয়েছেন। জয়ী তরুণ নেতাদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হলেন: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ইশরাক হোসেন।
মিত্র দলের কিছু নেতা ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১৩ থেকে ববি হাজ্জাজ এবং লক্ষ্মীপুর-১ থেকে শাহাদাত হোসেন সেলিম সম্ভাব্য প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী হিসেবে নাম আলোচনায় রয়েছে।
পুরনো মিত্র দলের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার আন্দোলনের নুরুল হক নুর জয়ী হয়েছেন এবং তাঁরা নতুন মন্ত্রিসভায় ডাক পেতে পারেন।
যারা এবার মন্ত্রিসভায় থাকছেন না, তাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা পরিষদে স্থান পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা করা হতে পারে।
নির্বাচনের বিজয়ীরা ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করবেন। সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। বিকেলে একই স্থানে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
ভিওডি বাংলা/এমএস







