• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান, এমপি হলেন স্বপন ফকির

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৪ পি.এম.
টাঙ্গাইল-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। ছবি: ভিওডি বাংলা

“সবুরে মেওয়া ফলে”—প্রবাদটি যেন বাস্তবে রূপ নিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন–এর জীবনে। দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

শুরুর পথচলা ও প্রথম পরাজয়

২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন–এ প্রথমবারের মতো বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নামেন স্বপন। সে সময় তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ওই নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই হয়, কারণ বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন পৌর বিএনপির সভাপতি খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু (দেয়াল ঘড়ি প্রতীক)।

নৌকা প্রতীকে ড. রাজ্জাক পান ৯৮ হাজার ৪১৩ ভোট এবং বিজয়ী হন। দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে গফুর মন্টু পান ৫৩ হাজার ৫০৯ ভোট। আর স্বপন পান প্রায় ৪০ হাজার ভোট। বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতিই ছিল তার বড় বাধা।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক সংগ্রাম

ভূঞাপুরের ঐতিহ্যবাহী ফকির পরিবারের সন্তান স্বপন এরপর মধুপুর-ধনবাড়ীতে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। বিএনপি সরকারের আমলে তিনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে ২০০৬ সালে মধুপুর থেকে ধনবাড়ীকে আলাদা উপজেলা ঘোষণার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য যা স্থানীয়ভাবে তার সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত।

২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ তিনি আবারও বিএনপির মনোনয়ন পান এবং ড. রাজ্জাকের মুখোমুখি হন। এবার দ্বিমুখী লড়াই হলেও জয় আসেনি। তবে তার ভোট বেড়ে দাঁড়ায় ৮৮ হাজার ৪৬১ যা আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।

দশম ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় প্রার্থী হতে পারেননি। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি দলের পরীক্ষিত সৈনিক ও কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

অবশেষে বিজয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী পান ৯৪ হাজার ৪৬২ ভোট।

এ আসনে মোট ২ লাখ ৮৭ হাজার ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাতিল ভোট ছিল ৬ হাজার। প্রদত্ত ভোটের হার দাঁড়ায় ৬৫.৬৭ শতাংশ। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শরীফা হক স্বাক্ষরিত ফলাফল সিট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বপ্নপূরণ ও নতুন প্রত্যাশা

নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় স্বপন জানান, এই জয় মধুপুর ও ধনবাড়ীবাসীর। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন লক্ষ্য মধুপুর-ধনবাড়ীকে নতুনভাবে সাজানো।

ফলাফল ঘোষণার পর তার সমর্থকদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ২৫ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে টাঙ্গাইল-১ আসনে ধানের শীষের জয় এনে নিজের রাজনৈতিক অধ্যায়ের নতুন সূচনা করলেন ফকির মাহবুব আনাম স্বপন।

মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, দীর্ঘ  প্রতীক্ষার পর বিএনপি এ আসনটি উদ্ধার করলো। এ বিজয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, টাঙ্গাইল-১ আসনের সকল ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ-শুভেচ্ছা জানান তিনি। 

তিনি বলেন, দেশের সরকার করতে যাচ্ছে বিএনপি। দেশের জনগণের সাথে মধুপুর ধনবাড়ীর জনগণকে নিরাপদ রাখা এখন আমাদের প্রথম কাজ। সাথে মধুপুর ধনবাড়ীকে উন্নত করার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হবে।

ভিওডি বাংলা/ মোঃ লিটন সরকার/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছেলের কাছে হেরে জামানত হারালেন বাবা
ছেলের কাছে হেরে জামানত হারালেন বাবা
নিজ দলের ৫ কর্মীকে পুলিশে দিলেন শেখ ফরিদ
নিজ দলের ৫ কর্মীকে পুলিশে দিলেন শেখ ফরিদ
‘আমাকে মেরে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি করে রাখা হয়েছে’: আখতার হোসেন
‘আমাকে মেরে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি করে রাখা হয়েছে’: আখতার হোসেন