• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
প্রাপ্ত আসন ২১৩
প্রতীক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতীক
জামায়াত জোট
জামায়াত জোট
প্রাপ্ত আসন ৭০
প্রতীক জামায়াত জোট প্রতীক
জাতীয় নাগরিক পার্টি
জাতীয় নাগরিক পার্টি
প্রাপ্ত আসন
প্রতীক জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রতীক
মোট ভোটার: ১২,৭৬,৯৫,১৮৩ | আসন: ২৯৯ | ঘোষিত আসন: ২৯৭

নতুন নেতৃত্ব ও অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৭ পি.এম.
নতুন নেতা-তারেক রহমান-ছবি-ভিওডি বাংলা

নির্বাচনে বড় ধরনের ফলাফলের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। মাত্র দুই বছর আগেও যে রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতার ভারসাম্য একদিকে ঝুঁকে ছিল, তা এত দ্রুত বদলে যাবে-এমনটা অনেকের কাছেই ছিল অকল্পনীয়। দীর্ঘদিনের শাসন, বিরোধী শিবিরের দুর্বল অবস্থা এবং নানা বিতর্কের মধ্যেও তখনকার সরকার টিকে থাকবে-এমন ধারণাই ছিল প্রবল। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনে ফলাফল উল্টে দিয়ে বিরোধী শক্তির জোরালো প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন নতুন নেতা-তারেক রহমান-যিনি এবার প্রথমবার সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই নতুন নেতৃত্ব কি সত্যিই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে, নাকি এটি কেবল আরেকটি রাজনৈতিক চক্রের পুনরাবৃত্তি? 

দ্রুত বদলে যাওয়া রাজনৈতিক দৃশ্যপট

দুই বছর আগের নির্বাচনে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের জয় নিয়ে কারচুপির অভিযোগ ছিল ব্যাপক। তখন বিরোধী শক্তির পুনরুত্থান খুব একটা সম্ভাব্য মনে হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন এবং জনঅসন্তোষের প্রেক্ষাপটে সেই দৃশ্যপট দ্রুত পাল্টে যায়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি দল-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও আওয়ামী লীগ-পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছে। তবে এবারের পরিবর্তনের বড় দিক হলো, দলীয় নেতৃত্বে প্রজন্মগত রদবদল।

বিএনপির দীর্ঘদিনের নেত্রী খালেদা জিয়া গত বছরের শেষদিকে অসুস্থতায় মারা যান। তিনি চার দশক ধরে দলটির প্রধান ছিলেন। তার আগে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর দলীয় নেতৃত্ব তার হাতে আসে।

‘অপরীক্ষিত’ থেকে সম্ভাবনার প্রতীক?

দলের নেতৃত্বে নতুন মুখ হিসেবে তারেক রহমানকে ঘিরে প্রত্যাশা যেমন আছে, তেমনি সংশয়ও রয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন এবং সরকারের সরাসরি দায়িত্বে আগে কখনও ছিলেন না-এ কারণেই অনেকের চোখে তিনি এখনও ‘অপরীক্ষিত’।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এই অভিজ্ঞতার ঘাটতিই তার জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাদের যুক্তি, দীর্ঘদিনের পুরনো শাসনধারা নিয়ে মানুষের হতাশা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন নেতৃত্বের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই একধরনের আশাবাদ জন্ম নেয়। পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে মানুষ এবার বাস্তবে দেখতে চায়।

নির্বাচনের আগে ও পরে তার বক্তব্যে সংস্কার, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি জোর দিয়ে এসেছে-যা ভোটারদের একটি অংশের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি

বিজয়ের পর বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, তাদের প্রথম অগ্রাধিকার হবে গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠন। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত এক দশকে দুর্বল হয়ে পড়া গণতান্ত্রিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।

তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন প্রতিশ্রুতি নতুন নয়। অতীতে ক্ষমতায় এসে অনেক দলই কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে-এমন অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান কমাতে পারাটাই হবে নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা।

তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও সতর্ক বার্তা

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন ও পরিবর্তনের পেছনে তরুণদের বড় ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের মধ্যে এখনো পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখা যায়।

তাদের অনেকেই বলছেন, শুধু সরকার পরিবর্তন নয়-প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কমানো, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা-এসবই প্রকৃত সাফল্যের মানদণ্ড। তারা স্পষ্ট করে দিচ্ছেন, প্রত্যাশা পূরণ না হলে আবারও আন্দোলনে নামার মানসিকতা তাদের রয়েছে। এই প্রজন্ম রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ তৈরি করছে-ঘোষণা নয়, বাস্তব ফল দেখানোর জন্য।

আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনীতি: সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

ক্ষমতার পরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অন্তর্বর্তী সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস, কিন্তু তার সময়েও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।

নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে:

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম কমানো, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সামাল দেওয়া, তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ পরিবেশ পুনরুদ্ধার।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা নয়-কার্যকর প্রশাসনিক সক্ষমতাও এখানে বড় ভূমিকা রাখবে।

নতুন শক্তির উত্থান ও সংসদের নতুন সমীকরণ

এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেয়েছে। দলটি অতীতে দু’বার নিষিদ্ধ হয়েছিল। তাদের এবারের ইশতেহার ছিল উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারকেন্দ্রিক; সেখানে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের কথা সরাসরি উল্লেখ ছিল না।

তবে তাদের পূর্বঘোষণা ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে ভবিষ্যৎ নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

এছাড়া নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-যা আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট তরুণদের উদ্যোগে গঠিত-প্রথমবার অংশ নিয়েই ছয়টি আসন পেয়েছে। সংসদে নতুন ও অনভিজ্ঞ সদস্যদের উপস্থিতি নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে, আবার অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

নারীদের অংশগ্রহণ: অগ্রগতি না স্থবিরতা?

নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এবারও হতাশার চিত্র স্পষ্ট। মোট প্রার্থীর মধ্যে মাত্র চার শতাংশের কিছু বেশি ছিলেন নারী। সরাসরি নির্বাচিত আসনে নারীদের অংশগ্রহণ সীমিতই রয়ে গেছে।

বাংলাদেশের সংসদে ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৩০০টি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয় এবং বাকি ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন-যা দলগুলোর আসন অনুপাতে মনোনয়নের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। সমালোচকদের মতে, এতে নারীর প্রকৃত রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সীমিত থাকে।

নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য?

এবারের ভোট ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অনিশ্চয়তায় ভরা-তবে বড় বিরোধী শক্তি আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলা হয়েছে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, কোনো দল নির্বাচনে অংশ নেবে কি নেবে না-তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও জনসমর্থনের ওপর নির্ভর করে। গুরুতর অভিযোগ থাকলে জনগণই ভবিষ্যতে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে-কোনো বড় দলকে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে ভবিষ্যতে আবারও সমীকরণ বদলাতে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ
তারেক রহমানকে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
তারেক রহমানকে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
আজই ২৯৭ আসনের ফলের গেজেট
আজই ২৯৭ আসনের ফলের গেজেট