ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল
| প্রাপ্ত আসন | ২১৩ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৭০ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৬ |
| প্রতীক |
|
বিএনপির বিজয় মেনে নেওয়ার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

বিএনপির নির্বাচনী বিজয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শফিকুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার দল নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফল মেনে নিচ্ছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। পোস্টে তিনি নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে ধৈর্য, সংযম ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির বলেন, শুরু থেকেই তারা একটি স্থিতিশীল, কার্যকর এবং অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সেই অবস্থান থেকে সরে না এসে জনগণের রায়কে সম্মান জানানোই তাদের রাজনৈতিক নৈতিকতার অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়া গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং এতে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি তার পোস্টে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত দলীয় স্বেচ্ছাসেবক, কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বলেন, গত কয়েক মাসে অসংখ্য মানুষ সময়, শ্রম ও ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে মাঠে কাজ করেছেন। অনেকেই নানা চাপ, ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। তবুও তারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে পিছিয়ে যাননি। তাদের এই ত্যাগ ও সাহস দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের মানসিক অবস্থার কথাও উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফলে অনেকেই হতাশ বা ব্যথিত হতে পারেন-এটি স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া। কোনো আদর্শ ও লক্ষ্য সামনে রেখে দীর্ঘদিন কাজ করার পর প্রত্যাশা পূরণ না হলে কষ্ট লাগতেই পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ প্রচেষ্টা কখনোই বৃথা যায়নি।
সংসদে দলীয় উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, এবার ৭৭টি আসন পেয়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব আগের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়েছে। এর মাধ্যমে তারা জাতীয় সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী ব্লক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আধুনিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনীতির পরিবর্তনশীল চরিত্র তুলে ধরে তিনি অতীতের উদাহরণও দেন। তিনি বলেন, একসময় বড় দলও আসনসংখ্যায় অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল, কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া-এখানে ধৈর্য, সাংগঠনিক শক্তি ও জনগণের আস্থা সবচেয়ে বড় উপাদান। সেই আস্থা অর্জনই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির আরও বলেন, নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা কেবল নির্বাচনী প্রচারণায় নয়, বরং জনগণের রায় গ্রহণ করার মানসিকতায়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু ফলাফল মেনে নিয়ে গঠনমূলক ভূমিকা রাখাই রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয়।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাদের আন্দোলন বা রাজনৈতিক কার্যক্রম কখনোই শুধু একটি নির্বাচনকেন্দ্রিক ছিল না। বরং বৃহত্তর লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা, নাগরিক অধিকার রক্ষা করা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। ভবিষ্যতেও সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই তারা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, তাদের দল নীতিবান, দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী শক্তি হিসেবে সংসদ ও রাজপথ-উভয় ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখবে। সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে সমালোচনা-দুই ধারাতেই তারা সক্রিয় থাকবে। জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/জা







