ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল
| প্রাপ্ত আসন | ২১৩ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৭০ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৬ |
| প্রতীক |
|
ভালোবাসা দিবসেই পহেলা ফাল্গুন

শীত বিদায়ের প্রহর গুনছে প্রকৃতি। গাছে গাছে পলাশের রঙিন ছটা আর আমের মুকুলের ঘ্রাণ জানিয়ে দিচ্ছে বসন্তের আগমন। ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করতে প্রস্তুত বাঙালি। এবারও বসন্তের প্রথম দিন পহেলা ফাল্গুন এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবস একই দিনে পালিত হচ্ছে-১৪ ফেব্রুয়ারি।
সংশোধিত বাংলা বর্ষপঞ্জির ফলে এই পরিবর্তন এসেছে। আগে বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী পহেলা ফাল্গুন পড়ত ১৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু নতুন সংশোধনের পর বসন্তের প্রথম দিনটি স্থির হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি, যেদিন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ভালোবাসা দিবস। গত বছরও একই দিনে দুটি দিবস একসঙ্গে উদযাপিত হয়েছিল।

নতুন বর্ষপঞ্জি প্রণয়নের লক্ষ্য ছিল বাংলা তারিখকে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসগুলোর সঙ্গে স্থায়ীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা। এর ফলে ইংরেজি তারিখ অপরিবর্তিত থাকলেও বাংলা মাসের কিছু তারিখে পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে নির্দিষ্ট জাতীয় দিবসগুলো প্রতি বছর একই বাংলা তারিখে পালিত হবে।
বাংলা একাডেমি-এর তথ্য অনুযায়ী, সংশোধিত বর্ষপঞ্জিতে বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাস ৩১ দিন করে গণনা করা হয়। কার্তিক থেকে মাঘ-এই চার মাস ৩০ দিন করে ধরা হয়েছে। ফাল্গুন মাস সাধারণ বছরে ২৯ দিন এবং গ্রেগরীয় অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ারে ৩০ দিন গণনা করা হবে। এই কাঠামোর ভিত্তিতেই নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি সাজানো হয়েছে।
বসন্ত উৎসবের ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। বাংলার লোকসংস্কৃতি, পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বসন্তের উল্লেখ পাওয়া যায়। বিশেষ করে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে বসন্ত উৎসব ঘিরে নানা আয়োজনের প্রচলন রয়েছে। রঙ, ফুল, গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে তারা এই ঋতুকে স্বাগত জানান।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সময় থেকে বসন্ত উৎসব নতুন মাত্রা পায়। তার উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে বসন্তোৎসব পালনের রীতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সেই ধারার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। বাংলা সন ১৪০১ সাল থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্ত উৎসব উদযাপনের রীতি চালু হয়।

বাংলাদেশে বসন্ত বরণের অন্যতম বড় আয়োজন হয়ে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে। প্রতিবছর এখানে রঙিন পোশাক, ফুলের মালা, গান, নাচ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বসন্তকে স্বাগত জানানো হয়। বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
তবে করোনাভাইরাস মহামারির অভিজ্ঞতার পর কিছু বছর স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় বড় জমায়েত এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ উৎসব আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।
ঋতুচক্রের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালির জীবনযাপন ও সংস্কৃতিতে বসন্তের রয়েছে আলাদা আবেদন। প্রকৃতির রঙ বদলের সঙ্গে মিল রেখে মানুষও নতুন রঙে, নতুন প্রত্যাশায় দিনটি উদযাপন করে। এবারও ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন একসঙ্গে পড়ায় উৎসবের আমেজ বাড়তি মাত্রা পেয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







