ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল
| প্রাপ্ত আসন | ২১৩ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৭০ |
| প্রতীক |
|
| প্রাপ্ত আসন | ৬ |
| প্রতীক |
|
কারাবন্দি ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তির ৮৫ শতাংশ ক্ষতি

আদিয়ালা কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়ে ফেলেছেন বলে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এক মেডিকেল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে এ প্রতিবেদন জমা দেয়।
মামলার প্রেক্ষিতে চিকিৎসা সহায়তা চেয়ে সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করেন ইমরান খান। তার পক্ষে আবেদনটি করেন আইনজীবী সালমান সাফদার। পিটিশনটি আমলে নিয়ে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট কারা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন এবং আদিয়ালা কারাগারে একটি মেডিকেল বোর্ড পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালতের প্রতিনিধি (অ্যামিকাস কিউরি) হিসেবে সালমান সাফদারকে মেডিকেল টিমের সঙ্গে উপস্থিত থাকার অনুমতিও দেওয়া হয়।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মেডিকেল টিম আদালতে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে— পিটিশনার ইমরান খান রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর পর চিকিৎসা শুরু হয়। তবে চিকিৎসা গ্রহণের পর থেকেই তার দৃষ্টিশক্তি দ্রুত কমতে থাকে। বর্তমানে তার চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মাত্র ১৫ শতাংশ কার্যকর রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মেডিকেল রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী অতীতে সাধারণত নিজের শারীরিক সমস্যার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তেমন অভিযোগ করেননি। কিন্তু চোখের সমস্যা শুরু হওয়ার পর তিনি একাধিকবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, শুরুতে বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাস থেকে তার চোখের জটিলতা বাড়তে শুরু করে। চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া, ঝাপসা দেখা এবং আলোতে অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় এসব লক্ষণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।
আইনজীবী সালমান সাফদার আদালতে দেওয়া পর্যবেক্ষণে বলেন, সাক্ষাতের সময় ইমরান খানের চোখ দিয়ে ক্রমাগত পানি পড়ছিল এবং তিনি বারবার টিস্যু দিয়ে চোখ মুছছিলেন। তিনি আদালতকে আরও জানান, কারাগারে তার মক্কেলকে আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সেই সুযোগ সবসময় মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ইমরান খান।
কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আদালতের নির্দেশনার পর তার চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইমরান খানের পরিস্থিতি বহুদিন ধরেই আলোচনায়। ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।
ক্ষমতা হারানোর পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে তিনি আদিয়ালা কারাগার-এ বন্দি আছেন। তার শারীরিক অবস্থা, বিচার প্রক্রিয়া এবং কারাবন্দি জীবন নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে নিয়মিত আলোচনা চলছে।
এই সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশের পর তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানিতে কী নির্দেশনা দেন, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
সংবাদটি প্রথম প্রকাশ করে পাকিস্তানের বেসরকারি সংবাদমাধ্যম জিও টিভি।
ভিওডি বাংলা/জা







