• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সংঘাতের শঙ্কা তুঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৩ এ.এম.
সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার তীব্রতার মাঝে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে, যেখানে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন, জানিয়েছে বিবিসি।

গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ফলে মার্কিন প্রতিক্রিয়ার পরই এই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো দাবি করেছে, এই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

যদিও বৈঠকের স্থান ও পরিধি নিয়ে প্রথমে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো মিশর, তুরস্ক ও কাতার—কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে সহযোগিতা করেছে। দুই দেশের অবস্থান এখনো বিপরীতমুখী থাকলেও, আলোচনা সফল হলে একটি কাঠামো তৈরি হওয়ার আশা দেখছে কূটনৈতিক মহল।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত রাখা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হ্রাস, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন এবং নাগরিকদের প্রতি আচরণ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কিন্তু ইরান জানিয়েছে, তারা আলোচনাকে শুধু পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায়।

যদি আলোচনায় দ্রুত সমাধান না হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরানের ওপর সেনা ও বিমান হামলা চালাতে। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে হাজার হাজার সেনা ও নৌবহর মোতায়েন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান।

ইরানও জবাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা প্রয়োজন হলে মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আঘাত করবে। ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, যিনি বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “তাদের আঙুলের ট্রিগারে” রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রতিনিধিত্ব করবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। শুক্রবার থেকেই শুরু হওয়া আলোচনায় তারা অংশ নিচ্ছেন।

গত জুনে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর এটি হবে ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রথম সরাসরি বৈঠক। ইরান জানিয়েছে, ওই হামলার পর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর বর্তমান সরকার সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

এই সময়ে ট্রাম্পের হুমকির মধ্যে বিক্ষোভ দমন করা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হয়েছিল এবং বিক্ষোভকারীরা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অবসানের দাবি করেছিল। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কমপক্ষে ৬৮৮৩ জন নিহত হয়েছে এবং ৫০ হাজারের বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইরান বলছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার রয়েছে এবং তারা উচ্চ সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আঞ্চলিক কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে সমৃদ্ধকরণ সীমিত করার প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারেন।

ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি সমর্থন বন্ধ করার দাবিকে অগ্রহণযোগ্য মনে করছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, “উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত আলোচনা চালানোর” নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, মার্কিন হামলা ইরানকে আরও বিস্তৃত সংঘাত বা দীর্ঘমেয়াদী বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে। ট্রাম্প বলেছেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি’কে চিন্তিত হওয়া উচিত।” মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “আমরা আশা করি একটি পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে, যদিও চুক্তি হওয়া নিশ্চিত নয়।”

প্রাথমিকভাবে আলোচনাটি ইস্তাম্বুলে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু ইরান শেষ মুহূর্তে ওমানে স্থানান্তরের অনুরোধ করে। এবার এটি কেবল ইরানি ও আমেরিকান কর্মকর্তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যুদ্ধ অবসানে বৈঠকের আয়োজনে প্রস্তুত পাকিস্তান
যুদ্ধ অবসানে বৈঠকের আয়োজনে প্রস্তুত পাকিস্তান
ইসরায়েলে হামলা আরও কঠোর করার হুমকি ইরানের
ইসরায়েলে হামলা আরও কঠোর করার হুমকি ইরানের
আইআরজিসির গোয়েন্দা সদর দফতরে হামলার দাবি ইসরায়েলের
আইআরজিসির গোয়েন্দা সদর দফতরে হামলার দাবি ইসরায়েলের