মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রয়োজন নেই: আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকটের ঝুঁকি এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে একটি স্থায়ী পারমাণবিক চুক্তি এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ—এমন মন্তব্য করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ।
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটের এক প্যানেল আলোচনায় মঙ্গলবার আনোয়ার গারগাশ বলেন, “আমার মনে হয় এই অঞ্চল নানা ধ্বংসাত্মক সংঘাতের মধ্য দিয়ে গেছে। আরেকটি সংঘাত আমাদের প্রয়োজন নেই। আমি চাই সরাসরি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা হোক এবং তা থেকে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হোক; যাতে আমাদের প্রতিদিন এসব সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হবে। একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ইরান নিজের প্রয়োজনও পূরণ করবে। এটি একটি রাজনৈতিক চুক্তি, একটি বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক চুক্তি হবে; যা এই অঞ্চলের জন্য উপকারী হবে এবং ইরানের অর্থনীতিও পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে।”
মঙ্গলবার জানা গেছে, আগামী শুক্রবার তুরস্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক আলোচনা শুরু করবে। রয়টার্সকে দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৈঠকে অংশ নেবেন। আঞ্চলিক কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও মিসরের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন।
ইরানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর জড়ো হওয়ার পেছনে রয়েছে গত মাসে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল ইরানের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। তবে হুমকির পরও ট্রাম্প সরাসরি হস্তক্ষেপ করেননি। পরে তিনি তেহরানকে পারমাণবিক বিষয়ে ছাড় দিতে বলেছিলেন এবং নৌবহর পাঠিয়েছিলেন।
এদিকে তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য প্রস্তুতি চলছে।
গারগাশ জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অন্যান্য ইস্যু যেমন ইয়েমেন ও সুদান সংক্রান্ত সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি প্রতিফলিত হয়। তবে তিনি বলছেন, এসব ‘শব্দদূষণ’ বাস্তব পরিস্থিতি থেকে আলাদা করে দেখতে হবে।
সূত্র: রয়টার্স
ভিওডি বাংলা/এমএস







