টাকা আত্মসাৎ মামলায় সালমানকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ

ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দফায় দফায় প্রশ্ন করেন দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ও সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন।
গত ৮ জানুয়ারি সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনকে আসামি করে দুদক একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রোববার ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন।
মামলায় আসামি হিসেবে সালমান এফ রহমানের পরিবার ও ব্যবসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তার ভাই এ এস এফ রহমান, ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান ও নাতি আহমেদ শাহরিয়ার রহমান। এছাড়া বেক্সিমকোর পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক রীম ও এইচ শামসুদ্দোহা, এবং এমডি ওসমান কায়সার চৌধুরীকেও আসামি করা হয়েছে।
জনতা ব্যাংকের তৎকালীন কর্মকর্তাদের মধ্যে সিইও আব্দুছ ছালাম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুল জব্বার, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক উপব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, সাবেক সহ-ব্যবস্থাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক এজিএম শাজাহান, সাবেক এজিএম মো. হুমায়ুনি কবীর ঢালী, সাবেক ম্যানেজার শ, ম মাহাতাব হোসেনও মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া, কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেডের এমডি মো. মাহফুজুর রহমান খান ও পরিচালক সৈয়দ তানভীর এলাহী, এবং ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেডের এমডি আবু নাঈম মাহমুদ ও পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের গ্রাহক কোজি অ্যাপারেলস লিমিটেডের পক্ষ থেকে ঋণ সুবিধা মঞ্জুর ও প্রদান করেছেন। এলসির মাধ্যমে নিজেরাই মালামাল আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমডেশন বিল তৈরি করে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
আদালতে অভিযোগ করা হয়, কোজি অ্যাপারেলসকে নবনির্মিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হয়, এবং পরিচালকদের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭(৩), ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এর ৪ ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দুদক এই মামলায় আরও জিজ্ঞাসাবাদ চালাবে এবং প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে আসামিদের দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
ভিওডি বাংলা/জা







