• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

রাঙ্গাবালীতে বক্স কালভার্ট নির্মাণ

অনিয়মের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি    ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৩ পি.এম.
বক্স কালভার্ট নির্মাণে অনিয়ম। ছবি: ভিওডি বাংলা

‎পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে একটি সেতু নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নকশা বহির্ভূত কাজের প্রতিবাদে স্থানীয়রা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দুই গ্রামের হাজারো মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তরের তদারকিতেও রয়েছে চরম গাফিলতি।

‎উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেনের হাওলা ও গঙ্গিপাড়া গ্রাম। এ দুই গ্রামে বসবাস করেন কয়েক হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে হলুদিয়া খালের ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা।

‎গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অধীনে ৪০ লাখ ৫০ হাজার ৭১১ টাকা ৬৫ পয়সা ব্যয়ে, বছর খানেক আগে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় বর্ষার অজুহাতে মাঝামাঝি সময় থাকে বন্ধ পুনরায় কাজ শুরু হয়। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত মানের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বালু, দেয়া হচ্ছে কম সিমেন্ট এবং ঢালাইয়ের ভেতরে মাটি দিয়ে তার ওপর কংক্রিট ঢালা হয়েছে। এমনকি লবণ পানি ব্যবহার করেও কাজ করা হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

‎স্থানীয়রা জানান, তাদের চোখের সামনেই লবণ পানি ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চলছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

‎তাদের আরও অভিযোগ, রডে টান দিলেই তা উঠে যাচ্ছে, হাত দিয়ে ধরলে পাথর খুলে পড়ছে। লবণ পানি ব্যবহার করে প্লাস্টার করায় পুরো কাঠামো নড়বড়।

‎ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও। তারা স্থানীয়দের অনুরোধ করেন কাজ চালু রাখতে দেওয়ার জন্য, তবে পরে নিজেরাই কাজ বন্ধ করে দেন।

‎ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়, কাজটি তারা সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে অন্য একজনকে দিয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা স্বীকার করেছেন, চূড়ান্ত দায় মূল ঠিকাদারের ওপরই বর্তায়। তারা আরও জানান, সাব-কন্ট্রাক্টর অতিরিক্ত অর্থ নিয়েও কাজ সঠিকভাবে করেননি।

‎এদিকে অনিয়মের বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, এবং নিজে না এসে তার অফিসের একজন স্টাফ পাঠান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে। এসময় অপর প্রান্ত থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জানান সেতু নির্মাণকাজটি প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তরের আওতায়ই পরিচালিত হচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তিনি কথা বলবেন। পরে তিনি ঘটনা স্থলে এসে স্থাপিত বেইজ ভেঙ্গে পুনঃস্থাপনের  ব্যবস্থা নেন।

‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া জানান, রাঙ্গাবালীর হলুদিয়া খালের উপর নির্মাণাধীন নির্মাণ কাজের ত্রুটি সম্পর্কে আপনার কাছে জানতে পেরেছি বিষয়টি তদন্ত করে  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

‎এদিকে সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেনের হাওলা ও গঙ্গিপাড়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন কাজে হাটবাজারে যাতায়াতসহ কৃষিপণ্য পরিবহনেও প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

‎স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেতু নির্মাণকাজ মানসম্মতভাবে পুনরায় শুরু করার দাবি জানিয়েছেন।

ভিওডি বাংলা/ মোঃ কাওছার/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সুজানগরে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে আরও মৃত্যু ১, আটক ১২
সুজানগরে বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে আরও মৃত্যু ১, আটক ১২
মাদারীপুরে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম
মাদারীপুরে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কৃষকদের মাঝে সেচ সরঞ্জাম বিতরণ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে কৃষকদের মাঝে সেচ সরঞ্জাম বিতরণ