ব্যাটিং ব্যর্থতায় বিদায় বাংলাদেশের

বড় স্বপ্ন আর উচ্চাশা নিয়ে যুব বিশ্বকাপে অংশ নিতে গেল মাসে দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল। ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সমর্থকদের প্রত্যাশাও ছিল শিরোপাকে ঘিরে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ তো দূরের কথা, সেমিফাইনালের দৌড়েই টিকতে পারল না আজিজুল হাকিম তামিমের নেতৃত্বাধীন যুব টাইগাররা। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার সিক্স পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয় পেলেও তার আগেই সেমিফাইনালের আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। ফলে সুপার সিক্সে শেষ ম্যাচটি হয়ে ওঠে শুধুই নিয়মরক্ষার। হারারেতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। জবাবে ৪৮.৪ ওভারে ১৭৮ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের যুবারা। ৭৪ রানের জয় পেলেও তাতে কোনো সান্ত্বনা খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ।
পুরো বিশ্বকাপজুড়েই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল ব্যাটিং। বড় মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাটাররা। বিশেষ করে ওপেনার জাওয়াদ আবরারের কাছ থেকে যে প্রত্যাশা ছিল, তার সামান্য অংশও পূরণ করতে পারেননি তিনি। ভারতের বিপক্ষে ৫, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪৭, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৫ রান-চার ইনিংসে গড় মাত্র ২০.৭৫। স্ট্রাইক রেটও ছিল গড়পড়তা।
অন্য ওপেনার রিফাত বেগও হতাশ করেছেন। ইনিংস বড় করতে না পারার রোগে ভুগেছেন তিনি। ক্রিজে সময় কাটালেও ম্যাচ জেতানোর মতো ইনিংস উপহার দিতে পারেননি। ব্যাটিংয়ে মন্দের ভালো ছিলেন অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম। তিনটি ফিফটিতে তার সংগ্রহ ১৯৪ রান। তবে একজন ব্যাটারের পারফরম্যান্সে দলকে টেনে তোলা সম্ভব হয়নি।
মিডল অর্ডারেও ছিল ব্যর্থতার ছাপ। কালাম সিদ্দিকি অলিন পুরো আসরজুড়ে কোনো ম্যাচেই অর্ধশতক করতে পারেননি। একই অবস্থা রিজান হোসেনের ব্যাটেও। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, বশির রাতুল ও ফরিদ হোসেনরাও ধারাবাহিক রান খরায় ভুগেছেন। ফলে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।
তবে বোলিং বিভাগে কিছুটা স্বস্তি ছিল। দুই পেসার ইকবাল হোসেন ইমন ও আল ফাহাদ পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। আল ফাহাদ ১২ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। ইমনও ছিলেন কার্যকর, নিয়েছেন ১১ উইকেট। কিন্তু অন্য বোলাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেননি। রিজান হোসেন ও ইকবাল হোসেন জীবন টুর্নামেন্টজুড়ে বড় ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হন।
সব মিলিয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতা ও কিছু ম্যাচে পরিকল্পনার ঘাটতিই যুব বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের আগেভাগে ছিটকে পড়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগাতে না পারায় আরেকবার হতাশা নিয়েই ফিরছে যুব টাইগাররা।
ভিওডি বাংলা/জা







