২ সপ্তাহে সবজির দামে বড় উল্লম্ফন

শীতের ভরা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা স্বস্তিদায়ক থাকলেও, মৌসুমের শেষের দিকে এসে সরবরাহ কমার কারণে আবারও বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র গত দুই-তিন সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় প্রতিটি সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা, আজমপুর ও আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বেশ কিছুটা চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। এ ছাড়া, শালগম প্রতি কেজি ৬০ টাকা, গোল বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পেঁয়াজের ফুল প্রতি মুঠো ২০ টাকা, মুলা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং গাজর প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। জাতভেদে শিম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৮০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা এবং ব্রকলি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর কাঁচাবাজারে আসা বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা রিপন সরকার বলেন, “গত সপ্তাহে যে ফুলকপি ২০-৩০ টাকায় কিনেছি, আজ তার দাম চাওয়া হচ্ছে ৫০ টাকা। দরদাম করে শেষ পর্যন্ত ৪৫ টাকায় কিনতে হলো। একইভাবে পেঁয়াজের কলিও আগে ১৫ টাকায় কিনতাম, আজ ২০ টাকায় কিনতে হলো। প্রতিটি সবজির দামই বেড়েছে।”

আরেক ক্রেতা রিয়াজুল হান্নান বলেন, “এ সপ্তাহে সবজির দাম কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়ে গেছে। শীত শেষ হওয়ার কারণে বিক্রেতারা দাম বাড়াচ্ছেন। বাজারের অস্থিরতা রোধে নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন।”
কামারপাড়া কাঁচাবাজারের বিক্রেতা তৈয়বুর রহমান জানান, “শীতের ভরা মৌসুমে সরবরাহ বেশি থাকার কারণে দাম কম থাকে। কিন্তু শীত শেষ হয়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারের দাম বেড়ে গেছে। ফলে খুচরা বাজারেও ২০-৪০ টাকা বেড়েছে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শীত শেষ হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং পাইকারি বাজারের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি বাজারে দাম বাড়ানোর মূল কারণ। তারা সরকারি পর্যবেক্ষণ ও বাজার মনিটরিং জোরদারের পরামর্শ দিচ্ছেন।
বাজার অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনিক পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও সময়মতো পাইকারি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভিওডি বাংলা/জা







