• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

চুল প্রতিস্থাপনের পর হতে পারে যেসব সমস্যা

লাইফস্টাইল    ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৪ পি.এম.
চুল পড়া সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসের সাথেও জড়িত-ছবি-ভিওডি বাংলা

চুল পড়া এখন কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়; অনেকের জন্য এটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জড়িত। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কল্যাণে চুল প্রতিস্থাপন বা হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে এই পদ্ধতির পর কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন রোগীরা। সেগুলো আগে থেকে জানা থাকলে উদ্বেগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

অস্থায়ী চুল পড়া (শক লস)
চুল প্রতিস্থাপনের ২ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে নতুন লাগানো চুল পড়া স্বাভাবিক। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে “শক লস” বলা হয়। এটি সাধারণত ভয় পাওয়ার কিছু নয়। নতুন চুল সাধারণত ৩–৬ মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে গজাতে শুরু করে। রোগীদের মনে রাখা উচিত, এ সময় অতিরিক্ত চুল পড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।

ফোলাভাব ও ব্যথা
অপারেশনের পরে কপাল, চোখের চারপাশ এবং মাথার ত্বকে হালকা থেকে মাঝারি ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে ব্যথা ও অস্বস্তি। চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ এবং নির্দেশনা অনুসরণ করলে সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই সমস্যা কমে যায়।

চুলকানি ও স্ক্যাব (খোস-পাঁচড়া)
চুল প্রতিস্থাপনের পর মাথার ত্বকে ছোট ছোট স্ক্যাব বা খোস তৈরি হতে পারে। এতে চুলকানি স্বাভাবিক। তবে খোস খোঁচানো বা জোর করে তুলে ফেলা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই রোগীদের পরামর্শ দেওয়া হয়, ধৈর্য ধরে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী যত্ন নেওয়ার।

সংক্রমণ ও রক্তপাতের ঝুঁকি
যদিও বিরল, তবে অপারেশনের পর সংক্রমণ বা অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঠিক না রাখলে বা চিকিৎসকের পরামর্শ অমান্য করলে এই ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। অপারেশন সাইট নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দাগ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ চুল গজানো
স্ট্রিপ মেথডে চুল প্রতিস্থাপন করলে মাথার পেছনে তুলনামূলক বড় দাগ দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, ফলিকুলার ইউনিট ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতিতে ছোট ছোট দাগ দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে চুল প্রত্যাশিত ঘনত্বে না গজানো বা সমানভাবে না বৃদ্ধি পাওয়ার সমস্যা হতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন
চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, নিম্নলিখিত উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি:

দীর্ঘদিন ফোলাভাব না কমা, জ্বর বা তীব্র ব্যথা, পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত চুল ও হঠাৎ অতিরিক্ত চুল পড়া।

চুল প্রতিস্থাপন সাধারণত নিরাপদ ও কার্যকর একটি পদ্ধতি। তবে অপারেশনের পর সাময়িক সমস্যা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। সঠিক চিকিৎসক নির্বাচন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত ফলোআপ করলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। রোগীরা যদি সাবধান হন এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলেন, তবে ফলাফল সাধারণত সন্তোষজনক হয় এবং নতুন চুল গজানো ও আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মস্তিষ্কের ওপর কী প্রভাব পড়ছে?
শিশুদের স্ক্রিন টাইম: মস্তিষ্কের ওপর কী প্রভাব পড়ছে?
মিথ্যা বলার অভ্যাস ছাড়বেন যেভাবে
মিথ্যা বলার অভ্যাস ছাড়বেন যেভাবে
শিশুর ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে সারাদিন ডায়াপার পরালে
শিশুর ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে সারাদিন ডায়াপার পরালে