• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

স্মৃতিকথা, উপন্যাস ও প্রবন্ধ সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩০ পি.এম.
প্রেসক্লাবে জামাল উদ্দিন জামালের স্মৃতির আড়ালে ক্রন্দন গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য দেন দুদু-ছবি-ভিওডি বাংলা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, স্মৃতিকথা, উপন্যাস কিংবা প্রবন্ধ-যা-ই লেখা হোক না কেন, তা সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আজ না হোক, হয়তো ৫০ বছর পর কেউ যদি তার স্বজন-পরিজন কিংবা অন্য কেউ সেই সময়কে জানতে চায়, তাহলে এই লেখাগুলোর মধ্যদিয়েই সে সময়ের সাক্ষ্য খুঁজে পাবে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কথা সাহিত্যিক জামাল উদ্দিন জামালের স্মৃতির আড়ালে ক্রন্দন গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, আমাদের জাতির দুর্ভাগ্য হলো-শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক থেকে শুরু করে তার আগেও যারা ছিলেন জাতির পথপ্রদর্শক, যাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ইতিহাসে খ্যাতিমান সেই মানুষগুলোর অনেকেই জীবদ্দশায় লিখে যেতে পারেননি। তাঁরা জাতির জন্য লড়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন; কিন্তু মৃত্যুর মধ্যদিয়ে তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা, ভাবনা ও উপলব্ধির অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শেরে বাংলা ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী-এমনকি শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দিন আহমেদ কিংবা পরবর্তীতে শহীদ জিয়াউর রহমান ও আতাউর রহমান খানের মতো নেতাদের ক্ষেত্রেও আমরা দেখি, লিখিত স্মৃতির ঘাটতি রয়ে গেছে। আতাউর রহমান খানের একটি বই আছে-এটাই ব্যতিক্রম হিসেবে চোখে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, আজ জামাল যে ক্ষুদ্রতর প্রয়াস ও উদ্যোগ নিয়েছে, আমি সেটিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের সবারই উচিত-নিজ নিজ সময়কে, নিজের চোখে দেখা সমাজকে, যেভাবে আমরা বুঝেছি ও অনুভব করেছি-সেটা লিখে রাখা। কেউ যদি সাংবাদিক হিসেবে লেখেন, তার দৃষ্টিভঙ্গিতে; সেটাও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান দলিল হয়ে থাকবে।

সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, আমাদের দেশে অনেক খ্যাতিমান সাংবাদিক ছিলেন, যাঁরা বাংলাদেশের মুক্তি আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অনেকেই শহীদ হয়েছেন, অনেকেই পরবর্তীতে ইন্তেকাল করেছেন। কর্মজীবনে তাঁরা সক্রিয় ছিলেন, কিন্তু তাঁদের লেখা আমরা খুব বেশি পাইনি-বিশেষ করে বই আকারে পাইনি। এই অর্থেই বলছি, আমরা হারিয়েছি বহু মূল্যবান স্মৃতি।

তাই আজকের এই উদ্যোগকে আমি সমর্থন করি এবং সকলের প্রতি আহ্বান জানাই-উদ্যোগী হই, যেন আমরা আমাদের সময়ের কথাগুলো আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারি। আমি এই বইয়ের সফলতা কামনা করি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের আরেকটি দোষ আছে-আমরা স্মারক বা পুরস্কার হিসেবে অনেকের কাছ থেকে বই প্রত্যাশা করি, কিন্তু নিজেরা কিনে পড়ার উদ্যোগ খুব কমই নিই। কেউ হয়তো উপন্যাস পড়তে ভালোবাসে না, কেউ প্রবন্ধকে কঠিন মনে করে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়-যাই হোক না কেন, যদি আমরা অন্তত দু’টি বইও দু’জনকে উপহার হিসেবে দিতে পারি, সেটাই অনেক বড় অবদান।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ধর্মগ্রন্থ আছে, ভ্রমণকাহিনি আছে-মানুষ বিভিন্ন দেশ ঘুরে তার অভিজ্ঞতাও লিখে যায়। এসবই আমাদের চিন্তাকে সমৃদ্ধ করে। তাই আমার আহ্বান একটাই-আসুন, আমরা বই কিনি, পড়ি এবং পুরস্কার বা উপহার হিসেবে অন্যের সঙ্গে শেয়ার করি। ক্ষুদ্র মনে হলেও, এই উদ্যোগ আমাদের সবার জন্যই অনেক কাজে আসবে।

ভিওডি বাংলা-সবুজ/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
তারেক রহমানের পক্ষে প্রচারণায় কোকোর স্ত্রী
তারেক রহমানের পক্ষে প্রচারণায় কোকোর স্ত্রী
এবারের নির্বাচন সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম
এবারের নির্বাচন সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম
নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য: হাবিব
প্রতিহিংসার রাজনীতি নয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য: হাবিব