• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ধর্মীয় বিশ্বাসে রাষ্ট্র বৈষম্য করবে না: আলী রীয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৩ পি.এম.
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সংগৃহীত ছবি

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই সনদ প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে। এই সনদের মাধ্যমে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য করবে না। নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করাই এই সনদের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক স্বদেশ গড়ার স্বপ্নে আমাদের রক্তাক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। বহু ত্যাগের বিনিময়ে যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, তা আর হারাতে চাই না।’

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

আলী রীয়াজ বলেন, ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ও ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সেই সংস্কারের লক্ষ্যেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া সময়ের দাবি।

তিনি সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেই জনগণকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ জরুরি, যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়। গণভোটে বিজয়ের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন সম্ভব।

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাই কার্যকর ছিল। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া এককভাবে অন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, সচিবালয় ও বিচার বিভাগের নিয়োগ রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে হলেও বাস্তবে এসব সিদ্ধান্ত তৎকালীন সরকারপ্রধানের ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে।

সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে ড. রীয়াজ বলেন, এটি নিজ দলের সংসদ সদস্যদের মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেওয়ার মতো। এই ধারা গণতন্ত্র বিকাশে বড় বাধা। প্রস্তাবিত সংস্কারে অর্থবিল ও আস্থা ভোটের ক্ষেত্রে দলীয় অবস্থান বজায় থাকবে, তবে অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা, যা সম্মানের সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে সন্তানের পরিচয় নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা, অর্জিত জ্ঞান ও প্রচেষ্টার ভিত্তিতে।’ তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে সংবিধানে বিসমিল্লাহ বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকবে না—এমন অপপ্রচার সম্পূর্ণ বোগাস। এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র মাথ ওরাও।

ভিওডি বাংলা/ এনআর/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ নির্বাচিত হলো জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি
বাংলাদেশ নির্বাচিত হলো জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিমানসুবিধা
সৌদি প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিমানসুবিধা
জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো “মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ”
মাহফুজ আলম: জামায়াত ও আওয়ামী লীগ হলো “মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ”