বাসিলানে ৩৪২ আরোহী নিয়ে ফেরি ডুবি, নিহত ১৫

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাসিলান প্রদেশে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকলেও নিখোঁজদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে ‘এমভি ত্রিশা কেরস্টিন-৩’ নামের ফেরিটি জাম্বোয়াঙ্গা বন্দর থেকে জোলো দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরুর কিছু সময় পরই ফেরিটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ডুবে যায়। ফেরিটিতে বিপুল সংখ্যক যাত্রী থাকায় মুহূর্তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড জানায়, ফেরিটিতে মোট ৩৩২ জন যাত্রী এবং ২৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। দক্ষিণ মিন্দানাও জেলার কোস্ট গার্ড কমান্ডার রোমেল ডুয়া জানান, এ পর্যন্ত ২১৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ১৪৪ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
বাসিলান প্রদেশের সংশ্লিষ্ট টাউন মেয়র আর্সিনা লাজা কাহিং-নানোহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ফেরি দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি কোস্ট গার্ডের উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে জীবিত যাত্রীদের উদ্ধার ও মরদেহ জাহাজে তোলার দৃশ্য দেখা যায়। পোস্টে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে বাসিলান জরুরি পরিষেবা সংস্থার কর্মকর্তা রোনালিন পেরেজ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এ পর্যন্ত অন্তত ১৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ১৮ জনকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ফেরিটি কী কারণে ডুবে গেছে, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড। প্রাথমিকভাবে আবহাওয়া পরিস্থিতি ও যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক নৌদুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত শুক্রবার মিন্দানাও দ্বীপ থেকে চীনের উদ্দেশে যাত্রাকালে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যায়। ওই ঘটনায় দুই ফিলিপিনো নাবিক নিহত হন, ১৫ জন উদ্ধার হলেও এখনো চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ভিওডি বাংলা/জা







