• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

তারেক রহমান

ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান ও বস্তিবাসী পুনর্বাসনে কাজ করবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২০ পি.এম.
ভাষানটেকে এক নির্বাচনী জনসভা বক্তব্য রাখছেন তারেক রহমান। ছবি: ভিওডি বাংলা

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাষানটেকের বিআরবি মাঠে এই নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান এলাকাবাসীর কাছে ভোট চান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর কি হয়েছে? ২৪‘র ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে।আমি মনে করি, সারা দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়, ভালো পরিবর্তন চায়। মানুষের সমস্যাগুলো যাতে সমাধান হোক, মানুষের চলাফেরা, মানুষের নিরাপত্তা , শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, দেশে বেকার তরুণ-তরুনী যারা আছে, যারা কর্মহীন অবস্থায় আছে তাদের কর্মসংস্থান করা… এইগুলোর সমাধান চায়। আমরা অতীতে দেখেছি, এই জনগণের পাশে কারা এসে দাঁড়িয়েছে ? কাজেই আমরা যদি অতীতের সবগুলো কাজ বিবেচনা করি আমরা দেখব, একমাত্র ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে এই দেশের মানুষ ততবারই এই দেশের উন্নয়ন হয়েছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, ভালো পরিবর্তন হয়েছে।কাজেই আসুন আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে যাচ্ছি।’

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার শুরু হওয়ার পর ঢাকা-১৭ আসনে  প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তারেক রহমানের এটা প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ। গতকাল তিনি হযরত শাহ জালাল(রহ) ও হযরত শাহ পরান(রহ) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে সিলেটের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে দলের নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেন।

এই নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান তার সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে আসেন।

ভাষানটেকের এলাকার মানুষের কী কী সমস্যা তার জানার জন্য সমাবেশ স্থল থেকে নিজে মাইক নিয়ে ভাসানটেকের দীর্ঘদিন বাসিন্দা, তুরণ শিক্ষার্থী, প্রান্তিক শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন স্তরের একজন করে ব্যক্তি ও নারীকে খুঁজে খুঁজে ডেকে আনেন এবং তাদের কাছে ভাসানটেকের সমস্যাগুলো কি জানতে চান। তারা বলেছেন, ভাসানটেকে বস্তিবাসীদের পূর্ণবাসন তারা চায়, চায় নারীদের জন্য কর্মসংস্থান, ফ্যামিলি কার্ড যাতে তারা সবাই চায় তার নিশ্চয়তা।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমিও এলাকায় গত ৫০ বছর যাবত বড় হয়েছি। যদিও মধ্যে এখানে অনেকদিন বাইরে থাকতে হয়েছে আমাকে। তারপরও আমি আপনাদেরই একজন। ”

‘‘স্বাভাবিকভাবেই আজকে যখন আমি এই এলাকার প্রার্থী হয়েছি। আমি আপনাদেরকে এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়া আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠনে সক্ষম হলে আজকে এই যে কয়জন মানুষ আপনাদের সকলের পক্ষ থেকে এখানে উপস্থিত হাজার হাজার এই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা বলে গেছেন, বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন সহ অন্য যেই সমস্যাগুলো বলে গেছে ইনশাল্লাহ আমরা সেই সমস্যার সমাধান করব।”

‘আমরা খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই’

মঞ্চে থাকা বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘‘ এই যে এখানে আমিনুল হক আছেন। সবাই চিনেন তাকে। ছেলে হোক মেয়ে হোক তারা যাতে প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে, ক্রীড়া দিয়ে যাতে জীবিকা অর্জন করতে পারে সেই প্রতিভা গুলোকে আমরা বের করে নিয়ে আসতে চাই। ”

‘দেশ পূনর্গঠন গণতন্ত্র চাই’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। দেশের প্রত্যেকটি সেক্টর বিগত ১৫/১৬ বছরের ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ধ্বংস হওয়ার ফলে আজকের দেশ অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। আমাদেরকে এগুলোকে পুননির্মাণ করতে হবে। যদি পুনর্নির্মাণ করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে এই দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কেন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে? কারণ গণতান্ত্রিকভাবে আপনারা যদি আপনাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে পারেন তাহলেই কিন্তু আপনি একমাত্র আপনার এলাকার সমস্যা, আপনার সমস্যা আপনি তার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন। আমি কি ঠিক কথাটা বলেছি।’

তিনি বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর যে আমি নির্বাচন হয়েছিল সেই নির্বাচনে যে তথাকথিত এমপি ছিল আপনারা কি তাদের যেতে পেরেছিলেন? আপনাদের এলাকার সমস্যা নিয়ে যেতে পেরেছেন? পারেন নাই। সেই জন্যই এলাকার সমস্যার সমাধান যদি করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে, আপনারা যদি প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে… শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয় একই সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেমন ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে ঠিক আমাদেরকে একইভাবে সেটি পৌরসভা হোক, উপজেলা হোক, ইউনিয়ন পরিষদ হোক সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে।’

‘অর্থাৎ জবাবদিহিতা থাকতে হবে। জনগণ কি চায় যারা জনপ্রতিনিধি হবে তাদেরকে অবশ্যই জানতে হবে জনগণের সমস্যা কি? আজকে যেভাবে আমি আপনাদের কাছে ঢেকেছি, আপনাদের কাছে থেকে আমি আপনাদের সমস্যা যেভাবে জানতে চেয়েছি। আমি চাই, আমার ইচ্ছা, আমার প্রত্যাশা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি আগামী দিন যারা নির্বাচিত হবেন তারা এইভাবে জনগণের কাছে গিয়ে জনগণকে সরাসরি জিজ্ঞেস করার মাধ্যমে তারা জনগণের সমস্যাকে চিহ্নিত করবে এবং এগুলা সমাধানের তারা উদ্যোগী হবেন।’

‘জনসমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি জরুরী’

তারেক রহমান বলেন, ‘‘আপনাদেরকে আমি আগেই বলেছি, আমাদেরকে যদি এই এলাকার মূল সমস্যার সমাধান করতে হয়, একই সাথে আমাদের যদি সারা দেশের সামগ্রিক যে সমস্যাগুলো আছে… মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের কর্মসংস্থান, মানুষের শিক্ষা, মানুষের চিকিৎসা এগুলোকে যদি আমাদের এড্রেস করতে হয়। এই সমস্যাগুলোর পর্যায়ক্রমিক যদি আমাদের সমাধান করতে হয় অবশ্যই আগামী দিনে বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক এবং সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। মানুষের নির্বাচিত সরকারি মানুষের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে। আমরা একটি শপথবাক্য পাঠ করি… সেই শপথবাক্যটি হচ্ছে, ‘করব কাজ করব, সবার আগে বাংলাদেশ। একই সাথে আপনাদেরকে আমি অনুরোধ করছি, যেই পরিকল্পনার কথাগুলো আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরলাম সেই পরিকল্পনাগুলোকে যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে সমগ্র বাংলাদেশের ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে এবং আপনাদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব পরিচিত জন সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে তাদের বলুন আপনারা। আজকে আপনাদের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে আগামী ১২ তারিখে যেন তারা ধানের শীষকে নির্বাচিত করেন এই দাবি আমি আপনাদের এলাকার সন্তান হিসেবে করছি।’

এই নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে আসেন। তিনি নিজে মাইক নিয়ে ভাসানটেকের বাসিন্দা, তুরণ শিক্ষার্থী, প্রান্তিক শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন স্তরের একজন করে ব্যক্তি ও নারীকে খুঁজে খুঁজে ডেকে আনেন এবং তাদের কাছে ভাসানটেকের সমস্যাগুলো কি জানতে চান।

প্রধান বক্তা হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, আমিও এই নির্বাচনী এলাকায় বাসকরি। এই বার আল্লাহ একটা সুযোগ দিয়েছেন যে যাকে ভোট দিবো আল্লাহ মেহেরবানি হলে তিনিই এই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

তিনি বলেন, এখন যারা নির্বাচন করছেন একমাত্র বিএনপি ছাড়া কারও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। 

জামায়াতের একজন প্রার্থীর কথা ইঙ্গিত করে নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ঢাকার একটি আসনেও বিজয়ী হবে না। যিনি এ কথা বলেছেন, তিনি কি আল্লাহ থেকে হুকুম পেয়েছেন? কিন্তু তার দলই কোনো দিন ঢাকায় কোনো আসনে জেতেনি। এই দম্ভের কারণেই তাদের পতন হবে।

বিএনপির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীমের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্যে দেন- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, যুগ্ম সমন্বয়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিন আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান, বিআরবি মন্দিরের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র সাহা, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলাদলের সভাপতি রুনা লায়লা, ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিকদলের সভাপতি শাহ আলম রাজা, কৃষকদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আসজাদুল আরিশ ডল, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ উদ্দিন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জগলুল হাসান প্রমুখ।

বক্তব্য শুরুর আগে ভাষানটেকের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি ভ্যানচালক, গৃহিণী, বস্তিবাসী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এলাকার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এবং নির্বাচিত হলে ও ক্ষমতায় গেলে সেসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

ভিওডি বাংলা/ সবুজ/ আরিফ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জে জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান
সিরাজগঞ্জে জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান
জনবিচ্ছিন্ন হয়ে নির্বাচনে জয় সম্ভব নয়
তারেক রহমান: জনবিচ্ছিন্ন হয়ে নির্বাচনে জয় সম্ভব নয়
বোরকা পরে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে
মির্জা আব্বাস: বোরকা পরে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে