রোজার আগে বাড়তি দামে ছোলা-চিনি-মুরগি, সবজিতে স্বস্তি

রমজান মাস শুরু হতে এখনও প্রায় এক মাস বাকি থাকলেও এরই মধ্যে রাজধানীর কাঁচাবাজারে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। রোজার সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ছোলা, ছোলার ডাল ও চিনির দাম বাড়ার পাশাপাশি মাছ, ডিম ও মাংসের মতো প্রোটিনজাত পণ্যের দামেও দেখা যাচ্ছে ঊর্ধ্বগতি। তবে শীতকালীন সবজি ও দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো থাকায় এসব পণ্যে এখনো কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ভোক্তারা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঢাকার কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মালিবাগ ও মিরপুরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক মাসে খুচরা বাজারে ছোলার দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়, যা এক মাস আগেও ছিল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা। একই সময়ে ছোলার ডালের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, আমদানি নির্ভর এসব পণ্যের ক্ষেত্রে ডলার সংকট, পরিবহন ব্যয় ও রোজাকে কেন্দ্র করে আগাম মজুতের প্রভাব দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। একাধিক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, সামনে রোজা থাকায় চাহিদা বাড়বে-এমন আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী আগেভাগেই পণ্য তুলছেন, যা বাজারে দাম বাড়াচ্ছে।

চিনির বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। কয়েকদিন আগেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পরিশোধন ও পরিবহন খরচ বাড়ায় চিনির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। তবে গত সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি দেখা দিলেও বর্তমানে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে বলে জানান তারা।
দীর্ঘ কয়েক মাস স্থিতিশীল থাকার পর গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। সোনালি মুরগি মানভেদে প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারেও কিছুটা চাপ দেখা গেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন মুরগির ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে ছিল।

অন্যদিকে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় বাজারে সবজির দামে এখনো তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। অধিকাংশ শীতকালীন সবজি প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পুরনো আলু ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজের উৎপাদন ভালো হওয়ায় এর দামও কম রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির মধ্যে শিম প্রতি কেজি মানভেদে ৪০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। গাজর প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চালকুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং করলা কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে কিছু সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। লম্বা লাউয়ের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আকারভেদে প্রতি পিস লম্বা লাউ ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেবুর বাজারেও চড়া ভাব রয়েছে। মাঝারি আকারের লেবু হালি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







