• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

রাজশাহী

শৈত্যপ্রবাহে ফসল ও মানুষের জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগ

রাজশাহী প্রতিনিধি    ৪ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:৩৭ পি.এম.
আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ। ছবি: ভিওডি বাংলা

গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সূর্যের দেখা না মেলায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ ও কৃষকরা।

কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল হাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ থরথর করে কাঁপছেন। বেড়েছে শীতজনিত রোগব্যাধি। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রেও। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আলু, শরিষা, ধানের চারা, পেঁয়াজ, মশুর ও বিভিন্ন সবজি। বিশেষ করে রাজশাহীর প্রধান অর্থকরী ফসল আম নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা।

বাঘা উপজেলার কৃষক মাসুদ করিম বলেন, “এখন আমগাছে মুকুল আসার সময়। কিছু বাগানে মুকুল দেখা দিলেও শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে পাতা ও মুকুল কালো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এভাবে ঠান্ডা চলতে থাকলে আম চাষে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।”

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত থেকে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে ঘন কুয়াশা বেড়েছে। তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। হিমালয় থেকে আসা হিমশীতল বাতাসে উত্তরের জনপদ কাঁপছে। নদীঘেঁষা চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

বাঘার পদ্মাবিধৌত চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আজম বলেন, “শীতের চেয়ে বেশি কাবু করছে হিমেল হাওয়া। একদিকে হতদরিদ্র মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে চরাঞ্চলের ফসল। এখনো পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি।”

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জানান, শীতজনিত কারণে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেক রোগীকে বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জনি বলেন, শৈত্যপ্রবাহে ফসলের ক্ষতি হওয়া স্বাভাবিক। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। কুয়াশা ও ঠান্ডা থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মি আক্তার জানান, এ পর্যন্ত সরকারি ভাবে ২ হাজার ৭০০টি কম্বল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে ২ হাজার ১০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা এখনও অপ্রতুল।

ভিওডি বাংলা/ রমজান আলী/ আ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর জামায়াতে যোগদান
রাজনীতি করি মানুষের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য
মির্জা ফখরুল রাজনীতি করি মানুষের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য
নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা
ইসি সানাউল্লাহ নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা