• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ:

নিরাপদ পানিকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:২৭ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানি পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার-এমন ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল এবং বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ১৬ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালত এ সংক্রান্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন।

এর আগে ২০২০ সালে সুয়োমোটো রুল জারি করে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছিলেন-দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানযোগ্য পানি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব কি না এবং এই অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের আলোকে রায় প্রদান করেন।

রায়ে আদালত বলেন, জীবনের অধিকার নিশ্চিত করতে নিরাপদ পানযোগ্য পানি অপরিহার্য। ফলে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানি পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

রায়ে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে সরকারকে একাধিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-দেশের সব পানির উৎস সংরক্ষণ করা, যাতে কোনো উৎস ক্ষয়প্রাপ্ত না হয়, শুকিয়ে না যায়, দূষিত না হয় বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ না হয়ে ওঠে। নদী, জলাশয়, ভূগর্ভস্থ পানিসহ সব উৎস রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত নির্দেশ দেন, প্রাথমিকভাবে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানযোগ্য পানি নিশ্চিত করতে হবে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে-রেলস্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, বিমানবন্দর, হাটবাজার, শপিং মল, সরকারি হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয়, সব সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আদালত প্রাঙ্গণ ও আইনজীবী সমিতি, লবণাক্ত উপকূলীয় অঞ্চল এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকা।

এছাড়া আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে নিরাপদ পানযোগ্য পানি এবং অন্য প্রয়োজনে সাশ্রয়ী মূল্যে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে পাবলিক প্লেসগুলোতে নিরাপদ পানি সরবরাহে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতেও বলা হয়েছে।

এ মামলার শুনানিতে এমিকাস কিউরি হিসেবে মতামত দেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, মিনহাজুল হক চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।

এই রায়কে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিক অধিকারের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
যেকোনো দিন রায় আসছে আবু সাঈদ হত্যা মামলায়
যেকোনো দিন রায় আসছে আবু সাঈদ হত্যা মামলায়
চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন
সরোয়ার আলমগীর: চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন
১০১ সংগঠনের কঠোর প্রতিবাদ, পুনর্বিবেচনার দাবি
চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডের রায় প্রত্যাখ্যান: ১০১ সংগঠনের কঠোর প্রতিবাদ, পুনর্বিবেচনার দাবি