• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মধুপুর পৌরসভার বরাদ্দের পৌনে দুই কোটি টাকা ফেরত নিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি    ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৫৬ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরসভার তিনটি উন্নত পাবলিক টয়লেট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গার্বেস স্টেশন (ডাম্পিং প্ল্যান) নির্মাণ প্রকল্পে কাটছাট হয়েছে। দুটি টয়লেটসহ গার্বেস স্টেশনের বরাদ্দের পৌনে দুই কোটি টাকা ফেরত নিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। বাকি একটা পাবলিক টয়লেট নির্মাণ কাজ বন্ধ। 

বরাদ্দ ফিরে যাওয়ার বিষয়টি দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রশাসক জানতেন না। তবে প্রকল্প অফিস বলছে চিঠিতে অবগত করা হয়েছে। অনুসন্ধানে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ও ঠিকাদারের সাথে কথা বলে জানা গেছে প্রকল্পের নানা তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে দেশের ৩০ প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের মধুপুর, ধনবাড়ী ও ভুঞাপুর পৌরসভায় স্যানিটেশন, ওয়াটার সাপ্লাইসহ নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড চলমান। ২০২০-২১ অর্থ বছরে স্যানিটেশন অংশে মাল্টি পারপাস তিনটি পাবলিক টয়লেট ও সাথে ময়লা প্রক্রিয়াজাতের গার্বেস স্টেশন (ডাম্পিং প্ল্যান) বরাদ্দ হয়। এ প্রকল্পের প্যাকেজে ব্যয় ধরা ছিল ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। লেস দিয়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৮ লাখে। 

জনস্বাস্থ্য বিভাগের আহবানের টেন্ডারে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারস’র ওই কাজ পায়। কিন্তু কাজ দৃশ্যমান হয়নি। জায়গা সংকটের অজুহাতে তিনটির দুটি পাবলিক টয়লেটের অর্থ ফিরে গেছে। সাথে চলে গেছে আলাদা ৬০ লাখ টাকার ময়লার গার্বেসও।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আল আমিন হোসেন অর্থ ফেরতের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আধুনিক দ্বিতল বিশিষ্ট এই পাবলিক টয়লেট জনবহুল এলাকায় নির্মাণ শর্ত। কিন্তু বিগত মেয়র আ’লীগ নেতা সিদ্দিক হোসেন খান তিনটি পাবলিক টয়লেটের জায়গা নির্ধারণ করে দিতে পারেননি। ব্যক্তি মালিকানার ও শর্তের বাইরে দেখানো জায়গায় কাজ করা যায়নি। ফলে সময় পার হয়ে যাওয়ায় দুটির অর্থ ফেরত গেছে। অপরটি মধুপুর হাটবাজার এলাকার বংশাই নদের ধারে নির্ধারিত স্থানে শুরু হলেও ঠিকাদার কাজ অব্যাহত রাখেনি। এখন বন্ধ আছে। 

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরের ট্রেড বিলো মাল্টিপারপাস ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করতে এসে নানা অজুহাতে গড়িমসি করেছে। প্রতিষ্ঠানের জনৈক রিয়াজ জানান, প্যাকেজের পুরো কাজ পেলে স্বাাচ্ছন্দে করা যেত। তবুও নানা প্রতিকুলতায় কাজ চালাতে শুরু করলে সহকারী প্রকৌশলী নির্মাণ সামগ্রির মানের প্রশ্ন তুলে কাজ বন্ধ করেছেন। ফলে প্রস্তুতিতে অনেক অর্থ ব্যয় হলেও কাজ এগোচ্ছে না। এ পর্যন্ত প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। লস মেনেও কাজ রেখে চলে যেতে ইচ্ছে করছে ।
 
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন জানান, গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নিয়ে পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকান্ড চলমান রাখছেন। তার দায়িত্বের আগেই জায়গা নির্ধারণের জটিলতায় পাবলিক টয়লেট প্রকল্প ঝুলে গিয়েছিল। কাজের ধীরগতি ও সময় উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব ব্যাংক অর্থ ছাড়ে আগ্রহী হয়নি।ফলে দুটি পাবলিক টয়লেট ও ডাম্পিং প্ল্যানের অর্থ ফিরে গেছে। 

তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্প অফিস বা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বিষয়টি তাকে অবগত করেনি। অর্থ চলে যাওয়ার পর তিনি অবগত হয়েছেন। 

তিনি আরও জানান, অবশেষে একটি পাবলিক টয়লেট হাটখোলা ব্রিজ পাড়ে নির্মাণ শুরু হয়। অল্প দিনের মধ্যেই ঠিকাদার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।

সহকারী প্রকল্প পরিচালক(ডিপিডি) মাহমুদুর রশীদ মজুমদার জানান, ঋণের টাকায় গৃহিত প্রকল্প নিয়ে অন্তর্বতী সরকারের রেসটেকশন আছে। তাই জায়গা সংকটসহ নানা জটিলতায় মধুপুর পৌরসভার পুরো প্রকল্পটি অনিশ্চয়তায় পড়ায় ২টি পাবলিক টয়লেট ও ডাম্পিং প্ল্যানের অর্থ ফেরত গেছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, যথা সময়ে লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। আন্তরিক থাকা সত্বেও বিষয়টি পৌর প্রশাসকের চোখ এড়িয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। 

দুটি পাবলিক টয়লেট ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ডাম্পিং প্ল্যান না হওয়ায় প্রথম শ্রেণির মধুপুর পৌরসভার বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। তিনি বাকি থাকা বন্ধ কাজটি সম্পর্কে জানান, কাজের মানের প্রশ্নে আমরা জিরো টলারেন্স।

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ

 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
তানোরের পুকুরপাড়ে বস্তায় আদা চাষে কৃষকদের সাফল্য
তানোরের পুকুরপাড়ে বস্তায় আদা চাষে কৃষকদের সাফল্য
রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলে ড্রাগন চাষে সাড়া
রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলে ড্রাগন চাষে সাড়া
শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত