• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

জাতিসংঘ

বৈদেশিক সহায়তা কমায় জরুরি সেবা হারাল ১০ লাখ নারী ও কিশোরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৩ পি.এম.
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী প্রয়োজনীয় জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একই সময়ে সহায়তার চাহিদা বাড়লেও অর্থের অভাবে নারী অধিকারভিত্তিক অনেক সংগঠন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি অন্যান্য প্রধান দাতা দেশও মানবিক সহায়তা খাতে ব্যয় সংকুচিত করায় নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো নজিরবিহীন আর্থিক সংকটে পড়েছে।

ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রম বিভাগের প্রধান সোফিয়া কালতোর্প বলেন, "বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা নারী সংগঠনগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের সামনের সারিতে কাজ করছে। তাদের জন্য প্রত্যাহার করা প্রতিটি ডলার মানে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার শিকার নারী, বাস্তুচ্যুত মা, স্কুলছুট কিশোরী এবং টিকে থাকার লড়াই করা মানুষের কাছ থেকে সহায়তা কেড়ে নেওয়া।"

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বব্যাপী সশস্ত্র সংঘাত এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে বর্তমানে প্রায় ১২ কোটি নারী ও কিশোরী মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষার প্রয়োজনের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

সংকটাপন্ন ৫২টি দেশের নারী নেতৃত্বাধীন ও নারীর অধিকারভিত্তিক ৮৫৫টি সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৮৪ শতাংশ সংগঠনের সেবার চাহিদা বেড়েছে। তবে প্রতি ১০টি সংগঠনের প্রায় ৯টিই প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পারছে না। এছাড়া প্রতি পাঁচটি সংগঠনের মধ্যে দুটি আগামী এক বছরের মধ্যে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

ইউএন উইমেন আরও জানিয়েছে, অর্থসংকটের মধ্যেও অনেক সংগঠনের নেতা ও কর্মীরা ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নারী নেতৃত্বাধীন ৬৫ শতাংশ সংগঠনে কর্মীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে তাঁদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক অবসাদ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার ঘটনা আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে ভুক্তভোগীদের সহায়তা ও সুরক্ষার জন্য গড়ে ওঠা কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৮৬ শতাংশ নারী সংগঠন জানিয়েছে, তাদের কর্মপরিবেশে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে। ইউএন উইমেনের মতে, বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নারী ও কিশোরীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়নের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি পাঁচটি সংগঠনের একটি ইতোমধ্যে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ ও লিঙ্গসমতা বিষয়ক কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এছাড়া অর্ধেকের বেশি সংগঠন জানিয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণও কমে যাচ্ছে।

ইউএন উইমেন সতর্ক করে বলেছে, নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে চলমান মানবিক সংকট আরও গভীর হবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং ক্ষমতায়ন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ভিওডি বাংলা/শিপা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
খামেনিকে দাফনের পর ইরানে ৭ বিস্ফোরণ
খামেনিকে দাফনের পর ইরানে ৭ বিস্ফোরণ
কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে ইরানের মিসাইল হামলা
মার্কিন হামলার জবাব কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে ইরানের মিসাইল হামলা
রাবাব ফাতিমা। ছবি: সংগৃহীত
ফাতিমাকে আফগানিস্তানে বিশেষ দূত করছে জাতিসংঘ