আটাব নির্বাচন: দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাল গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন জালিয়াতি, মৃত ও ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্তি হচ্ছে। এছাড়াও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড কর্তৃক নির্বাচন স্থগিতের পর এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ‘আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, আটাব প্রশাসক, নির্বাচন বোর্ড এবং আপিল বোর্ডের কতিপয় সদস্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে প্রভাবিত হয়ে এ বিশাল অনিয়মের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। একের পর এক স্বাক্ষর জালের ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়ার পর এ চক্রের থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাণিজ্য সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ প্রতিবাদ সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির নানা তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা হয়।
সভায় নেতারা বলেন, আটাবের প্রশাসক এবং নির্বাচন ও আপিল বোর্ডের কতিপয় সদস্য নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করেছেন। পকেট কমিটি গঠনের উদ্দেশে তারা সমস্ত নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ও নিজেদের অবৈধ সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিতে একের পর এক নথিতে স্বাক্ষর জালের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। আপিল বোর্ডের অনুপস্থিত সদস্যের ভুয়া স্বাক্ষর বসানো এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ডের নথিতে ব্যাকডেটে (পেছনের তারিখ) স্বাক্ষর করার মতো গুরুতর জালিয়াতি বারবার হাতেনাতে ধরা পড়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর নির্বাচন তদারকির দায়িত্ব ছিল, তারা এ দুর্নীতির সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তাদের এ চরম দায়িত্বহীনতা পুরো ট্রাভেল সেক্টরের ভাবমূর্তি ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
এর আগে, সাধারণ সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানির পর এফবিসিসিআই আরবিট্রেশন বোর্ড আটাবের নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেয়। তদন্তে প্রমাণিত প্রধান অনিয়মগুলো হলো-মেয়াদোত্তীর্ণ প্রশাসকের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা না থাকলেও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়।
প্রাথমিক ভোটার তালিকায় অসংখ্য মৃত ব্যক্তি, ভুয়া নাম এবং সরকারের লাইসেন্সবিহীন অস্তিত্বহীন ট্রাভেল এজেন্সিকে ভোটার করা হয়। আপিল বোর্ডের তিন সদস্যের মধ্যে মাত্র দুইজনের উপস্থিতিতে অবৈধভাবে শুনানি করে পরবর্তীতে তিনজনেরই স্বাক্ষর দেখিয়ে ভুয়া রায় প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবাদ সভায় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সদস্যরা বর্তমান আটাব প্রশাসনের চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও দেশের সর্বোচ্চ ব্যবসায়ী সংগঠনের সিদ্ধান্ত অবমাননার তীব্র সমালোচনা করেন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই-এর আর্বিট্রেশন বোর্ড সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে এ কলঙ্কিত নির্বাচন স্থগিতের স্পষ্ট রায় দিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আটাব প্রশাসক জনাব সাইফ উদ্দিন আহমেদ এবং নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান আইন ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে আগামী ২৫ জুলাই যেনতেন প্রকারে সেই ভুয়া ভোটার ও নজিরবিহীন অনিয়মের তালিকা দিয়েই একটি প্রহসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পাঁয়তারা করছেন।
তারা এফবিসিসিআই-এর রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের পকেট কমিটি গঠনের নীলনকশা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সভায় উপস্থিত সাধারণ ব্যবসায়ীরা একযোগে এ ধৃষ্টতার তীব্র প্রতিবাদ জানান। অনতিবিলম্বে আটাব প্রশাসক জনাব সাইফ উদ্দিন আহমেদ ও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ বিতর্কিত ও জালিয়াতির চক্রকে দায়িত্বে রেখে কখনোই কোনো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই সাধারণ সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের অবিলম্বে অপসারণ করা সময়ের দাবি।
প্রধানমন্ত্রী ও বাণিজ্য মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি: প্রতিবাদ সভা থেকে আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই-এর স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। একই সাথে তারা এ জালিয়াতির সাথে যুক্ত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আটাব দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম চালিকাশক্তি। এ সেক্টরকে ধ্বংস করতে প্রশাসক ও মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা যে জালিয়াতির সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বারবার স্বাক্ষর জালের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পরও তারা বহাল তবিয়তে আছেন।
আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রী এবং বাণিজ্য সচিবের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি—আপনারা দ্রুত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুন। একটি স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। এ নজিরবিহীন দুর্নীতির সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন।
নেতৃবৃন্দ চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জালিয়াতির সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সাধারণ ব্যবসায়ীরা রাজপথ, আইনি লড়াই এবং নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ট্রাভেল এজেন্টসদের অধিকার আদায়ে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিবাদ সভায় সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ আন্দোলন নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জোরালো বক্তব্য রাখেন আটাব গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তব্য রাখেন, আটাবের সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ, প্যানেল প্রধান এএসএম ইব্রাহিম, সাবেক মহাসচিব জিন্নুর আহমেদ চৌধুরী দিপু ও আফসিয়া জান্নাত সালেহ, মাহমুদুল আলম সিদ্দিকী, আমির হোসেন ভুইয়া টিপু, শফিক উল্লাহ নান্টু প্রমূখ।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য