• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিপর্যস্ত ও লুন্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করব: মাহ্দী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:৫৬ পি.এম.
আগারগাঁওয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাহ্দী আমিন। ছবি: ভিওডি বাংলা
আগারগাঁওয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাহ্দী আমিন। ছবি: ভিওডি বাংলা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে বিনির্মাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প বাস্তবায়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এমন একটি আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরাই হবে আগামী বাংলাদেশের প্রধান নির্মাতা ও অগ্রদূত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সাতটি জেলা থেকে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের আস্থা, ভালোবাসা ও প্রত্যাশারই বহিঃপ্রকাশ।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র একথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। 

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা, বিরুপ প্রকৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে আমাদের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করবে আগামীর বাংলাদেশের কান্ডারী তাঁরাই। এবং  প্রধানমন্ত্রী যে সমৃদ্ধ এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের রুপকল্প চেয়েছেন সেটি তাঁদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে ।

মাহ্দী আমিন বলেন, আজ এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রান্তিক পর্যায় থেকে চলে এসেছে। এখানে যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান , যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ দেখলাম সেগুলোতে কিন্তু আমাদের সেই শিক্ষার্থীরাই অংশগ্রহণ করেছে, যারা সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উঠে এসেছে। আজ দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে বন্যাকবলিত ৭টি জেলার শিক্ষার্থীরাও প্রবল বন্যা ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছোট্ট ছোট্ট শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জেলার স্বাতন্ত্র্য, সাফল্য ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে উপস্থিত হয়েছে। তাঁদের এই উপস্থিতি শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতির পাশাপাশি প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য মানসিকতারও এক অনন্য প্রতিফলন।

 প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন, সুনির্দিষ্ট এবং সুবিস্তীর্ণ লক্ষ্য দেখিয়েছেন, যেটি আমরা নির্বাচনী পথযাত্রায় দেখেছি, যেটা দেখেছি নির্বাচনী ইশতেহারে। এবং তার একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আজকে প্রায় ৬৫,০০০ স্কুলে একসাথে আমরা বৃক্ষরোপণ করেছি, প্রায় ২ লক্ষ বৃক্ষ। এই বৃক্ষ রোপণই সমাপ্ত হবে না। আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্কুলে এই বৃক্ষগুলোকে পরিচর্চা করবে। আমরা চাই এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে মানবিক মূল্যবোধ থাকবে। যেখানে তাঁরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং যেখানে তাদের ভ্যালু এবং প্রিন্সিপালস তৈরি হবে যার কারণেই কিন্তু তাঁরা বাংলাদেশের যে পতাকা সেটি আমাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ড ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে প্রসারিত করবে, আরো উঁচুতে নিয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আজকে আমাদের যে শিক্ষা ব্যবস্থা সেখানে কিন্তু সবচাইতে বড় ভূমিকা ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের। আমাদের যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম রয়েছে গণশিক্ষা, সে গণশিক্ষা কিন্তু শহীদ জিয়ার হাত ধরে সারা বাংলাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে গিয়েছিল। আজকে যে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব আমরা করছি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সেটি কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে শুরু হয়েছিল। আর আমাদের আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সুদীর্ঘ রাজনীতিতে তিনি বারবার তৃণমূলে ছুটে গিয়েছেন, বারবার ছুটে গিয়েছেন প্রান্তিক এলাকায় এবং নিশ্চিত করতে চেয়েছেন সব জায়গাতেই অবশ্যই ভালো শিক্ষক থাকতে হবে। অবশ্যই ভালো শিক্ষার্থী থাকতে হবে, অবশ্যই ভালো কারিকুলাম থাকতে হবে।

বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সকলে মিলে সেই শিক্ষা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে চান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই আগামী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব যারা করবেন। আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব যারা দেবে, সেই শিক্ষার্থীদের যার যেই সাবজেক্ট পড়তে ভালো লাগে, যার যেই ফিল্ডে ভালো করতে ইচ্ছা হয় রাষ্ট্রের দিক থেকে, সরকারের দিক থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবো।

তিনি বলেন, আমরা চাই  প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন রয়েছে, তার আলোকে সারা বছর জুড়ে সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাথে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সন্নিবেশের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এবং দেশজুড়ে সে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেরা শিক্ষার্থীরা, মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রতিভা এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ইতোমধ্যে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ভিতরে আমরা ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটা ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আগামীতে প্রাইম-মিনিস্টার্স ফুটবল গোল্ড কাপের জন্য তিনি আমাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবেন। 

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরো  বলেন, আজকের এই শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে বছরের পর বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে এবারের আয়োজনটি বিশেষভাবে ভিন্নমাত্রা বহন করছে। কারণ, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন, তার অন্যতম ভিত্তি হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন। দেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর লক্ষ্য, স্বপ্ন ও এগিয়ে যাওয়ার অভিযাত্রাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের মাধ্যমে আজকের এই অনুষ্ঠানে সেই দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন আমরা প্রত্যক্ষ করছি।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে দেশে রাষ্ট্রীয় শোক, পতাকা অর্ধনমিত
সকালে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের আগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ভিওডি বাংলা
দেশকে আরও সবুজ করতে সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত
আইন ও বিচার বিভাগে ১২ জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি