ভিডিও কলে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় যুবকের আত্মহত্যা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের দাবি, ঢাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই যুবক।
নিহত সজল কুমার দেউরী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিঠানিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে রাজধানীর ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে পাশের উপজেলা নাজিরপুরে রঞ্জিতা রানী হালদারের সঙ্গে সজলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকলেও সজল চাকরির কারণে ঢাকায় বসবাস করতেন।
নিহতের ছোট ভাই তুহিন দেউরী অভিযোগ করে বলেন, তাদের প্রতিবেশী শোভন বেপারীর সঙ্গে রঞ্জিতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে অশান্তি চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
তার দাবি, ঘটনার দিন সকালে ভিডিও কলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সজল আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিলে স্ত্রী তাকে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। পরিবারের সদস্যরা ওই কথোপকথনের কিছু অংশ শুনেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই নানা আলোচনা ছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোজ ঢালী বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। পরকীয়ার অভিযোগ নিয়েও এলাকায় গুঞ্জন ছিল। এসব কারণে মানসিক চাপে পড়ে সজল আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নিহতর স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদারকে বাড়িতে না পাওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযুক্ত শোভন বেপারী মুঠোফোনে বলেন, আমার বৌদির সঙ্গে কোনো পরকীয়া সম্পর্ক নেই। আমি তাকে সব সময় ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করতাম। এ সময় তাকে আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে কলটি কেটে দেন।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য