নাইজেরিয়ার স্কুলে সশস্ত্র হামলা, নিখোঁজ ৩৭ শিক্ষার্থী

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সশস্ত্র হামলার পর অন্তত ৩৭ শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার বোরনো রাজ্যের লাসা শহরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায় সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সের (আইএসডব্লিউএপি) সদস্যরা। কয়েক বছর ধরেই এ অঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় অন্তত ৩৭ শিক্ষার্থী এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় এক সেনাসদস্য, এক শিক্ষকসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একজন শিক্ষক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় সরকার কাউন্সিলর ইজাগলা ইজাবিলা সাংবাদিকদের কাছে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের একটি তালিকা দিয়েছেন। একটি গোয়েন্দা সূত্রও এএফপির কাছে একই তালিকার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোরনো রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী লাওয়ান আব্বা ওয়াকিলবে জানিয়েছেন, এখনও ২৫ জন ছাত্রী, ১১ জন ছাত্র এবং একজন শিক্ষক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে আটক রয়েছেন। তবে স্কুলের উপাধ্যক্ষসহ আটজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম কৌশলে পরিণত হয়েছে। এসব হামলায় প্রায়ই শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
২০১৪ সালে বোকো হারাম চিবোক শহর থেকে শত শত স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করেছিল, যা নাইজেরিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত অপহরণের ঘটনাগুলোর একটি। এরপর থেকে দেশটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত মে মাসে বোরনো রাজ্যের মুসা গ্রাম থেকে ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়। তাদের এখনও মুক্তি মেলেনি। একই মাসে ওয়ো রাজ্যের তিনটি স্কুল থেকেও কয়েক ডজন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা।
২০০৯ সাল থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলা করছে নাইজেরিয়া। গত এক দশকে সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও গত বছর থেকে আবারও হামলার সংখ্যা বেড়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ভিওডি বাংলা/আ








মন্তব্য