কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে হাসান

চোট কাটিয়ে ফেরার পর এবার আরও বড় মঞ্চে যাচ্ছেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের ডানহাতি পেসারকে ছয়টি রথসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের জন্য দলে নিয়েছে কেন্ট। সব ঠিক থাকলে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেখা যাবে তাকে।
হাসানের সঙ্গে চুক্তির খবর মঙ্গলবার (৯জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় কেন্ট।
ক্লাবটির বিবৃতি অনুযায়ী, জুন থেকে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ছয়টি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের জন্য তাকে নেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হবে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে।
এই সুযোগকে বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন হাসান। কেন্টের বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাবের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাওয়া তার জন্য সম্মানের। কাউন্টিতে খেলা তার কাছে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। শুধু নিজের জন্য নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও এটিকে গর্বের মুহূর্ত মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া লাল বলের ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা খুব বেশি জনের নেই। এর আগে সাকিব আল হাসান উস্টারশায়ার ও সারের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন। সেই তালিকায় এবার যোগ হতে যাচ্ছেন হাসান। বিশেষ করে একজন বাংলাদেশি পেসারের জন্য এমন সুযোগ আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
গত কয়েক মাস চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন হাসান। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে টেনিস এলবোর চোটে পড়ার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজেও খেলতে পারেননি তিনি। পুনর্বাসন শেষে ইংল্যান্ডে গিয়ে কেন্টের তত্ত্বাবধানে অনুশীলনও করেছেন বাংলাদেশের এই পেসার। সেই প্রক্রিয়ার পর কেন্টের মতো ক্লাবের ডাক তার ক্যারিয়ারের জন্য বড় প্রেরণা হতে পারে।
কেন্টের হয়ে হাসানের সম্ভাব্য প্রথম ম্যাচ ১২ জুন থেকে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে। ম্যাচটি হবে ব্ল্যাকপুলে। এরপর ১৯ জুন থেকে ক্যান্টারবেরি ক্রিকেট উইকে মিডলসেক্সের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলার কথা কেন্টের। এই দুই ম্যাচের পর জাতীয় দলের ব্যস্ততা থাকলে দেশে ফিরবেন হাসান। পরে সেপ্টেম্বরে মৌসুমের শেষ চারটি ম্যাচ খেলতে আবার ইংল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে তার।
হাসান জানিয়েছেন, তিনি কঠোর পরিশ্রম করে দলের সাফল্যে অবদান রাখতে চান। কেন্টের প্রধান কোচ অ্যাডাম হোলিওক ও ডিরেক্টর অব ক্রিকেট সাইমন কুকের সঙ্গে নিজের ভূমিকা ও দলের প্রত্যাশা নিয়ে তার আলোচনা হয়েছে। কেন্টের জার্সিতে মাঠে নামার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
হাসানকে দলে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে কেন্টও। ক্লাবটির ডিরেক্টর অব ক্রিকেট সাইমন কুক বলেছেন, হাসানকে দলে স্বাগত জানাতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। তাঁর মতে, মৌসুমের শেষ ভাগে কেন্টের বোলিং আক্রমণে আন্তর্জাতিক মানের গতি যোগ করবেন বাংলাদেশের এই পেসার।
হাসানের জন্য এই অভিজ্ঞতা শুধু ক্লাব ক্রিকেটের নয়, উন্নতিরও বড় সুযোগ। ইংল্যান্ডের কন্ডিশন, ডিউক বল, দীর্ঘ স্পেল, চার দিনের ম্যাচের ধৈর্য, সব মিলিয়ে একজন পেসারের জন্য কাউন্টি ক্রিকেট কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় ভালো করতে পারলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও লাভবান হতে পারেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস







