টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে যা বললেন টাইগ্রেস অধিনায়ক

ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে জুন-জুলাইয়ে বসছে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী দল। বিশ্বকাপের ঠিক আগে অনুশীলন ক্যাম্প চলেছে টাইগ্রেসদের। এর আগে খেলেছে শ্রীলঙ্কা সিরিজেও।
বিশ্বকাপের আগে নারীদের বিপিএল মাঠে গড়ানোর কথা থাকলেও তা হয়নি। বিশ্বকাপের ঠিক আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের মাটিতে স্কটল্যান্ড, বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডস নিয়ে আয়োজিত হবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। সেই সিরিজ খেলেই বিশ্বকাপের মঞ্চে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। মূল পর্বের আগে থাকছে জোড়া প্রস্তুতি ম্যাচও।
সর্বশেষ বিশ্বকাপে দুবাইয়ে এক ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ দল। এবার সেই জয়ের সংখ্যা বাড়াতে চান টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক বলেছেন, ‘শেষ বিশ্বকাপে দুবাইয়ে এক ম্যাচ জিতেছিলাম। সেখান থেকে এবার বেশি সম্ভাবনা আছে ম্যাচ জেতার সংখ্যা বাড়ানো। আমি মনে করি দলে এখন অনেক পারফর্মার এড হয়েছে যেটা আগে ছিল না। আগে ২-১ প্লেয়ারের উপর বেশি নির্ভরশীল ছিল দল। এখন অনেকে আছে যারা দলে অবদান রাখছে। প্লেয়ারদের মধ্যেও সেই ক্ষুধাটা আছে যে বিশ্বকাপে আমরা ভালো করতে চাই, ম্যাচ জিততে চাই। এবার আমাদের আরও ২-৩ ম্যাচ জেতার চিন্তা আছে। কিছু প্লেয়ার অনেক ধারাবাহিক দলের জন্য, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে অনেক ধারাবাহিকভাবে খেলছে। এভাবে খেলে যেতে পারলে আরও ভালো ফল পাব আশা করি।’
এছাড়া বিশ্বকাপে সবার বাড়তি নজরের ব্যাপারে জ্যোতি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে সবার নজর থাকে। প্লেয়াররা ভালো করলে অনেক জায়গা থেকে সুযোগ আসে। আমাদের জন্য বড় সুযোগ। সবাই অনেক ইতিবাচক মাইন্ডসেটে আছে। বিশ্বকাপে ভালো করতে পারলে বাংলাদেশ দলের জন্য এবং প্লেয়ারদের নিজেদের জন্যও অনেক ভালো কিছু হবে।’
বেশি ম্যাচ জেতার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সাথে পাকিস্তানকে টার্গেট করছেন জ্যোতি। সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সাথে জিতেছিল বাংলাদেশ। টাইগ্রেস অধিনায়ক বলেছেন, ‘নেদারল্যান্ডস এবং পাকিস্তান এই দুই ম্যাচে জেতার সবচেয়ে ভালো সুযোগ। ভারতের সাথে আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা আছে, দক্ষিণ আফ্রিকার সাথেও ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা আছে। ফলে ম্যাচ ধরে ধরে আগানোর প্ল্যানই আছে। আমরা যে গ্রুপে আছি আমাদের সুযোগ আছে অন্তত ৩ ম্যাচ জিততে পারব।’
ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে স্কোয়াডে মাত্র দুই পেসার মারুফা আক্তার এবং ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণাকে রাখার ব্যাপারে জ্যোতি বলেছেন, ‘দুজন পেসারের সাথে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডারও আছে, ফলে তিনজন। আমি এখন প্রায়ই যে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি যে, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে কেন দুইটা পেসার? এর কারণ হচ্ছে দুই পেসার নিয়েই কিন্তু গত ৬ মাস ধরে খেলছে দল। প্লেয়ার আসলে ক্যারি করা যায় না, ওরা বিশ্বকাপ খেলার মত প্রস্তুত। মারুফা সে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করছে। তৃষ্ণাও প্রুভেন প্রায়, আগের সিরিজে, বাছাইপর্বে ২-১ ম্যাচে যেভাবে সুযোগ পেয়েছে সেখানে ভালো করছে। খেলাতে পারব এমন রেডি প্লেয়ারই নিয়ে যাচ্ছি। এখন কীভাবে সেই দুই প্লেয়ারকে যত্ন নিচ্ছি যেন পুরো বিশ্বকাপে খেলতে পারে এটাই বেশি জরুরি ব্যাপার। মারুফা অনেক বেশি ভাইটাল হবে। তৃষ্ণাও খুব ভালো পারফর্ম করছে দলের জন্য।’
গ্রুপ পর্বে নারী ক্রিকেটের হেভিওয়েট অস্ট্রেলিয়ার সাথেও খেলতে হবে বাংলাদেশকে। অজি ম্যাচ নিয়ে জ্যোতি বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে আমাদের অনেক সাহসের দরকার হবে। কোনো দলই আসলে অজেয় না। আগে হয়ত অনেক দলের নাম দেখতাম আমরা হয়ত তাদেরকে হারানো সম্ভব না। তবে এখন আমাদের মনে হয় তাদের সাথেও ভালো ক্রিকেট খেলা সম্ভব এবং তাদেরকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলা সম্ভব।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে ৩ দল রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে একে অপরের বিপক্ষে ২ বার করে খেলবে। ২৮ মে শুরু হওয়া টুর্নামেন্ট চলবে ৪ জুন পর্যন্ত।
এরপর বিশ্বকাপে ১৪ জুন নেদারল্যান্ডস ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। গ্রুপে টাইগ্রেসদের বাকি সঙ্গীরা ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভিওডি বাংলা/এফএ







