আবার চালু হচ্ছে জনকণ্ঠ

দীর্ঘদিনের সংকট ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করেছে দৈনিক জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র দৈনিক জনকণ্ঠ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা এবং গণমানুষের স্বার্থে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করে আসছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংবাদমাধ্যমটি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কার্যক্রম চালিয়ে গেছে।
প্রেস নোটে বলা হয়, ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে দেশে মব কালচার ও দখলদারিত্বমূলক পরিস্থিতির কারণে দৈনিক জনকণ্ঠ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সময় গণমাধ্যম খাতে অস্থিরতা ও নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশের প্রভাব প্রতিষ্ঠানটির ওপরও পড়ে। এ অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ, ভাঙচুর, আক্রমণ এবং জোরপূর্বক মালিকানা ও সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম দখল, প্রভাব বিস্তার এবং যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কিছু ব্যক্তিকে সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম, পেশাগত পরিবেশ ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ, দায়িত্বে অবহেলা, অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা, ডিজিটাল নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো একাধিক সমস্যার মুখে পড়েছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে অনিয়মিত উপস্থিতি, পূর্ব অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা, ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি এবং আর্থিক ও সুনামগত ক্ষতির অভিযোগও ওঠে।
কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এসব দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আলোচনার উদ্যোগ, বকেয়া বেতন ও প্রাপ্য সুবিধা পরিশোধ এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনর্গঠন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও পেশাদার কাঠামোয় আনতে একটি পুনর্বিন্যাস কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া বেতন, বোনাস ও প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পরিশোধ সম্পন্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মীকে “টার্মিনেশন বেনিফিট”সহ অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক অব্যাহতি পত্র দেওয়া হবে এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তারা তাদের বৈধ পাওনা বুঝে পাবেন।
এছাড়া যেসব কর্মীর বিরুদ্ধে অনিয়মিত উপস্থিতি, বিনা নোটিশে অনুপস্থিতি, দায়িত্বে অবহেলা বা অন্যান্য প্রশাসনিক অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত থাকবে।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানায়, এই পুনর্গঠন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে দৈনিক জনকণ্ঠের অভ্যন্তরীণ বিষয়, যা প্রশাসনিক, সাংগঠনিক ও আর্থিক বাস্তবতার আলোকে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, পেশাদারিত্ব এবং সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
দৈনিক জনকণ্ঠ ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জাতীয় স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ভিওডি বাংলা/এমএস







