• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ প্রণোদনা

৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইসলামী আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৪ মে ২০২৬, ০৬:১৫ পি.এম.
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিলের কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির দাবি, অতীতের অভিজ্ঞতা সুখকর না হওয়ায় নতুন এই তহবিল নিয়েও জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান “বন্ধ কারখানা চালু, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা দিতে” ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে গভর্নর বেসরকারি খাতকে চাঙা করতে এই তহবিলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ২৫ লাখ কর্মসংস্থানের আশা প্রকাশ করেছেন।

তবে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে নানা ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। কিন্তু অতীতে এ ধরনের প্রণোদনা তহবিলের অভিজ্ঞতা সন্তোষজনক না হওয়ায় এর সঠিক ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি গভর্নরের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, বেসরকারি খাতে এই তহবিলের অপরিহার্যতার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা “একজন ব্যবসায়ীর দৃষ্টিভঙ্গি” বলেই মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গভর্নর ও বিএনপি সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা। তিনি বলেন, বিএনপি অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপিকে মনোনয়ন দিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ১১ জন সংসদ সদস্য হয়েছেন। ফলে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে আস্থা রাখা কঠিন।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে যেসব সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কিংবা পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আউটলুক ‘স্থিতিশীল’ থেকে ‘নেতিবাচক’-এ নামিয়ে এনেছে। পাশাপাশি আইন সংশোধনের মাধ্যমে এস আলমের মতো প্রতিষ্ঠানকে ফের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

তার দাবি, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন তহবিল সেই সংশয় আরও বাড়িয়েছে।

বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া উচিত, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখে; কোনো গোষ্ঠীস্বার্থে নয়।

তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সরকারি নজরদারির পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও চালুর আহ্বান জানিয়ে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “আমরা আর কোন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের সম্পদ লুটপাট হতে দিতে পারি না।”

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর ভাষা ও আচরণ দেখে মাদকাসক্ত মনে হয়
কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর ভাষা ও আচরণ দেখে মাদকাসক্ত মনে হয়
গুপ্ত শিবির এখন ক্যাম্পাস রাজনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
বিশেষ সাক্ষাৎকারে ছাত্রদল নেতা শামীম গুপ্ত শিবির এখন ক্যাম্পাস রাজনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
পাটোয়ারীর ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতাসহ শতাধিক লোকের নামে মামলা
পাটোয়ারীর ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতাসহ শতাধিক লোকের নামে মামলা