জাতীয় কবির লেখনীতে শোষিত-নির্যাতিতদের কথা উঠে এসেছে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, সাম্য, মানবতা, দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। তার সৃজনশীল কর্ম বাংলা সাহিত্যে তো বটেই, বিশ্ব সাহিত্যেও বিরল। কবি তাঁর ক্ষুরধার লেখার মধ্য দিয়ে আমরণ শোষিত-নির্যাতিত ও বঞ্চিতদের অধিকারের কথা বলে গেছেন। সকল অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। বিপ্লবী ও অবিনাশী কণ্ঠস্বরের জন্যই তিনি হয়ে ওঠেন ‘বিদ্রোহী কবি’।
সোমবার (২৫ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (২৪ মে) দেওয়া বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক। নজরুলের তাঁর কালজয়ী সব লেখায় ঋদ্ধ হয়েছে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য। নজরুল ছিলেন জাতীয় জাগরণের তূর্যবাদক ও আমাদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের রূপকার।
তিনি আরও বলেন, কাজী নজরুলের অমর সৃষ্টি শুধু নিজ ধর্ম, সমাজ-সম্প্রদায়, দেশ ও কালের গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ থাকেনি, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বদা গেয়েছে মানবতার জয়গান। কুসংস্কার আর অন্যায়ের সকল আবরণ বিদীর্ণ করে নতুন প্রেক্ষাপট ও ভিন্নতর ভঙ্গি তৈরির মধ্য দিয়ে কবি হয়ে উঠেছেন সকল সমাজের, সকল কালের।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, নজরুলের অগ্নিঝরা কবিতা, প্রেরণাদায়ী গান ও বিদ্রোহী চেতনা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে অপরিসীম অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। আমার বিশ্বাস, সমাজের শোষণ-বঞ্চনা, বৈষম্য, অপশাসন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নজরুলের কালজয়ী কবিতা, গান ও সৃষ্টি অনাদিকাল আমাদের অনুপ্রেরণা, শক্তি ও সাহস যোগাবে।
নজরুলের আদর্শ ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশপ্রেম, সততা ও নিষ্ঠার সাথে একটি সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাণীতে চিরঞ্জীব কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
ভিওডি বাংলা/এফএ







