খড়ে ট্রেনের হুইল স্লিপ, এজন্য ট্রেনের বিলম্ব: রেলপথ মন্ত্রী

ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহা কেন্দ্রিক ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে ট্রেনলাইনে খড় জমে যাওয়ার কারণে একটি ট্রেনে হুইল স্লিপের ঘটনা ঘটে, যার ফলে কয়েকটি ট্রেন সামান্য সময়ের জন্য বিলম্বিত হয় বলে তিনি জানান।
রোববার (২৪ মে) সকালে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, সকালে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কয়েকটি ট্রেন সামান্য দেরিতে চলেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেনে হুইল স্লিপের ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, ট্রেনলাইনের ওপর শুকনো ধানের খড় পড়ে থাকায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়।
তার ভাষায়, খড় সাধারণত কৃষকেরা ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার করেন। কিন্তু কিছু জায়গায় সেই খড় সরানো না থাকায় রেললাইনে বিছিয়ে যায়, ফলে ট্রেনের চাকা স্লিপ করে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি ঘটার পরপরই রিলিফ ট্রেন পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ট্রেনটি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে বড় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
রেলপথ মন্ত্রী জানান, মোট তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে চলেছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন প্রায় ২০ মিনিট, আরেকটি প্রায় এক ঘণ্টা এবং আরেকটি দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছে। তবে অন্যান্য ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে তিনি দাবি করেন। ঈদযাত্রার এই সময়ে চাপ অনেক বেশি থাকে। তাই সামান্য কিছু ব্যাঘাত হলেও পুরো ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঈদ মৌসুমে যাত্রী চাপের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী স্বীকার করেন, দেশের রেল ব্যবস্থার বর্তমান সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় কম। তিনি বলেন, প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনে প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয়। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত কোচ ও ট্রেন যুক্ত করে প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়তি যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে।
তবুও লক্ষাধিক মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করতে চায়, যা রেলের বর্তমান সক্ষমতার বাইরে চলে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের রেললাইন, লোকোমোটিভ এবং কোচের সংখ্যা এখনও প্রয়োজন অনুযায়ী বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়নি। এই কারণে ঈদ মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে চাপ সামলাতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
তিনি আরও জানান, যেসব এলাকায় দুর্ঘটনা বা লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, সেগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রেলমন্ত্রী বলেন, রেলপথে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে। ঈদের আগে থেকেই বিশেষ টিম কাজ করছে যেন যাত্রীরা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, কিছু জায়গায় এখনও নিরাপত্তা ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে কিছু স্টেশন পুরোপুরি সুরক্ষিত করা সম্ভব হয়নি এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি।
রেলপথ মন্ত্রী দাবি করেন, আগের তুলনায় রেলসেবার মান অনেক উন্নত হয়েছে। যাত্রীরা এখন অপেক্ষাকৃত ভালো পরিবেশে যাতায়াত করতে পারছেন এবং টিকিট ব্যবস্থাপনাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, অনলাইন ভিত্তিক টিকিট ব্যবস্থার মাধ্যমে আগেভাগে বুকিং করা যাত্রীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এতে করে সিন্ডিকেট বা অনিয়মের সুযোগ অনেক কমে এসেছে।
সব মিলিয়ে রেলপথ মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলমান ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক থাকবে এবং বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটবে না। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং নিয়মিত মনিটরিং চলছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, রেল সচিব ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভিওডি বাংলা/জা







