শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে সংঘর্ষ

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৪ মে) রাত ১টার দিকে হাসপাতালের চতুর্থ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃত রোগীর নাম মিজানুর রহমান (৪০)। তিনি পটুয়াখালী সদরের হাতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শনিবার (২৩ মে) বিকেলে পটুয়াখালীর গলাচিপায় জানাজা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মিজানুর রহমান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই তার মৃত্যু হয়।
মৃতের ছোট ভাই রুবেল হাওলাদার অভিযোগ করেন, রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় লিমন ব্যবস্থাপত্র নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা সরকারি বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ সরোয়ার ব্যবস্থাপত্র নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতাল স্টাফরা নাহিদসহ রোগীর স্বজনদের মারধর করে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ সরোয়ারকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। অন্যদিকে শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও অবস্থান নিলে জরুরি বিভাগের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও বিএম কলেজ শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বৈঠকের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/আ







