ট্রাইব্যুনালে আযমী
‘এরশাদের আমলে আমার অধীনে বন্দী ছিলেন শেখ হাসিনা’

এরশাদের সামরিক শাসনামলে ১৯৮৩ সালে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে রাজধানীর হেয়ার রোডের একটি বাসায় বন্দী রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় আসামিপক্ষের জেরার মুখে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা মামলায় তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান।
জেরার এক পর্যায়ে আযমী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৯৮৩ সালে আমার কয়েকবার দেখা হয়েছিল। এরশাদের সামরিক শাসন আমলে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে আমি আমার কোম্পানিসহ থাকতাম এবং মার্শাল ল-এর দায়িত্ব পালন করতাম। তখন ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রী পরিষদের সদস্য মরহুম মতিয়া চৌধুরী ও মরহুম সাহারা খাতুনকে বন্দী করে ওই বাড়িতে কয়েক দিন আমার অধীনে রাখা হয়েছিল।’
তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার তাকে মেজর জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক আদেশ না থাকায় তিনি জবানবন্দিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) পদবি ব্যবহার করছেন।
জেরায় তিনি বলেন, নিজের আবেদনের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী তাকে বাড়িভাড়া বাবদ ৪ কোটি টাকা দিয়েছে। তবে কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশে বন্দীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে—এ দাবি সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জেআইসিতে গুমের ঘটনায় দায়ের করা এই মামলায় ১৩ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে তিনজন সাবজেলে রয়েছেন। তারা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। এদিন তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্যদিকে মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক—লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।
এ ছাড়া পলাতকদের তালিকায় আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক। একই তালিকায় রয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক।
ভিওডি বাংলা/এমএস







