• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে কঠোর মুদ্রানীতি বহাল রাখবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৮ পি.এম.
অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী । ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সাময়িক স্বস্তির জন্য অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর নীতি থেকে সরে এসে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দিকেই এখন সরকারের জোর বলে জানান তিনি।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয় কভার করা সাংবাদিকরা অংশ নেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে মুদ্রা সরবরাহ সীমিত রাখা অপরিহার্য। অতীতে টাকা ছাপিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব হিসেবে সুদের হার বেড়েছে এবং বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, "আমরা এমন একটি নীতিতে আছি, যেখানে হাই পাওয়ার মানি বাড়িয়ে বাজারে অতিরিক্ত তারল্য তৈরি করা হবে না। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হয়।"

অতীতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক রাজনীতির কারণে অর্থনীতি কিছু গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। "বাংলাদেশের অর্থনীতি অলিগার্কদের হাতে চলে গিয়েছিল।" এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’ বা অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সুবিধা সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের হাতে সরাসরি আর্থিক ক্ষমতা তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, "পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নারীরাই সবচেয়ে দক্ষ, তাই তাদের হাতে অর্থ পৌঁছালে তা সাশ্রয় ও বিনিয়োগ উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।"

স্বাস্থ্য খাতেও ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, "আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার বেশি হলে পরিবারের জীবনমান কমে যায়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের আয় কার্যত বেড়ে যায়।"

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং স্টার্টআপ খাতকে অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এই খাতেই। পাশাপাশি গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগর ও সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকার কাজ করছে।

বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার ঘাটতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন দিতে পারছে না। বিনিয়োগ বাড়াতে ডিরেগুলেশনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, বলেন—ব্যবসায় অতিরিক্ত বাধা থাকলে নতুন বিনিয়োগ আসবে না।

জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিমান বংলাদেশের নতুন চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন
বিমান বংলাদেশের নতুন চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন
দেশকে পুনর্গঠনে সরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী
দেশকে পুনর্গঠনে সরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী
তীব্র গরম নিয়ে ভাইরাল বার্তাটি ফায়ার সার্ভিসের নয়
তীব্র গরম নিয়ে ভাইরাল বার্তাটি ফায়ার সার্ভিসের নয়