• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নিম্নমানের সড়ক নির্মাণ, অনিয়মের অভিযোগ

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি    ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত মান বজায় না রাখা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, পিচের পুরুত্ব কম দেওয়া এবং যথাযথ তদারকি ছাড়া কাজ সম্পন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচের স্তর হাত দিয়ে টান দিলে উঠে আসছে। এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এলজিইডির প্রকল্প নথি অনুযায়ী, বাহেরচর বাজার থেকে নেতা বাজার নাদু প্যাদা বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৫১ কিলোমিটার সড়কের পর্যায়ক্রমিক রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৮২ টাকা। প্রকল্পে রাস্তার বেস প্রস্তুত, পাথরের খোয়া বিছানো, প্রাইম কোট, ট্যাক কোট, ২৫ মিলিমিটার পুরু কার্পেটিং এবং এর ওপর ১৫ মিলিমিটার সিল কোট দেওয়ার কথা রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, কার্পেটিং কাজে প্রায় ৩৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং সিল কোটে প্রায় ১৭ লাখ ৭ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

তবে বাস্তবে অনেক স্থানে নির্ধারিত পুরুত্ব অনুযায়ী কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। কোথাও কোথাও পাথরের খোয়ার মানও নিম্নমানের বলে স্থানীয়দের দাবি। পিচ ঢালাইয়ের সময় পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার না করায় রাস্তার ওপরের স্তর দৃঢ়ভাবে বসেনি—ফলে সহজেই তা উঠে যাচ্ছে।

সরেজমিনে পরিমাপে দেখা গেছে, যেখানে ১৫ মিলিমিটার সিল কোট থাকার কথা, সেখানে অনেক জায়গায় ১০ থেকে ১২ মিলিমিটার পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রকল্প অনুযায়ী সড়কের দুই পাশে এজিং বা সাইড ড্রেসিং করার কথা থাকলেও তা অনেক স্থানে অসম্পূর্ণ রয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সড়কের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ চলাকালে এলজিইডির কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়মিত তদারকি করতে দেখা যায়নি। বিশেষ করে পিচ ঢালাই ও সিল কোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল মৃধা বলেন, “রাস্তা এমনভাবে করা হয়েছে যে পা দিয়ে চাপ দিলেই উঠে যায়। ভারী যানবাহন চললে দুই দিনও টিকবে না।”

আনছার ডাক্তার অভিযোগ করেন, “ভালোভাবে কাজ করতে বললে উল্টো তারা ক্ষুব্ধ হয়। কাজ বন্ধ করতে বলার পরও রাতে কাজ করেছে।”

ফরহাদ হোসেন বলেন, “বৃষ্টি হলেই রাস্তা ধুয়ে যাবে। হাত দিয়েই পিচ উঠে আসে।”

খলিল মিয়া বলেন, “নামমাত্র ঢালাই করা হয়েছে, সামান্য খোঁচাতেই উঠে যায়।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস জিয়াউল অ্যান্ড ব্রাদার্স-এর কেয়ারটেকার আইয়ুব গাজী দাবি করেন, তারা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন। তিনি বলেন, “পুরোনো রাস্তার সঙ্গে মিলাতে গিয়ে কোথাও কমবেশি হতে পারে। রোলারের চাপের কারণেও এমন সমস্যা হয়েছে।”

বিষয়টি জানতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) আরিফ হোসেনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। অফিস সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত কারণে উপজেলা প্রকৌশলী বাইরে রয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এই সড়কে নিম্নমানের কাজ হলে অল্প সময়েই তা নষ্ট হয়ে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ভিওডি বাংলা/মোঃ কাওছার/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পঞ্চগড়ে মাইক্রোবাসে ডাকাতির প্রস্তুতি, আটক ১০
পঞ্চগড়ে মাইক্রোবাসে ডাকাতির প্রস্তুতি, আটক ১০
যে কারণে ৬ ঘণ্টা বন্ধ ছিল মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল
যে কারণে ৬ ঘণ্টা বন্ধ ছিল মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল
রাঙ্গাবালীতে প্রবেশপত্র বিতরণে রমরমা ‘বাণিজ্য’
রাঙ্গাবালীতে প্রবেশপত্র বিতরণে রমরমা ‘বাণিজ্য’