• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
টপ নিউজ
জীবিকার পথ বন্ধ হলে বাঁচব কী করে? জাতীয় নেতাদের অশ্রদ্ধা করলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রকে দুর্বল করছে: ছাত্রপক্ষ জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমতি মিলেছে, সহসাই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা দায়িত্ব নিলেন নতুন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী মাউশির ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন প্রফেসর সোহেল হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, ১৮ এপ্রিলই হচ্ছে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সাক্ষাৎ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র:

জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমতি মিলেছে, সহসাই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের আশা

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি    ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১১ পি.এম.
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ:ছবি-ভিওডি বাংলা

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিংয়ের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ)। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা ধাপের নিরাপত্তা যাচাই শেষে এ ক্লিয়ারেন্স পাওয়ায় প্রকল্পটি এখন বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে চলতি এপ্রিল মাসের শেষ দিকেই প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিং শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ হওয়ায় জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় প্রতিটি ধাপে কঠোর পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা হচ্ছে।

তার ভাষায়, “এর আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল বিষয় সামনে আসায় প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল। সেগুলো সমাধান করা হয়েছে। এখন আমরা সব দিক বিবেচনা করে ফুয়েল লোডিংয়ের বিষয়ে একমত হয়েছি। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল অগ্রাধিকার।”

তিনি আরও জানান, ফুয়েল লোডিংয়ের সময় তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন এবং পুরো প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। তাঁর মতে, পারমাণবিক প্রকল্পে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ নেই এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্রসহ (এনওসি) প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সেফগার্ড ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ বা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন একটি বড় উৎস যুক্ত হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। ওই সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে উদ্বোধনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। ভার্চুয়াল মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

তবে লাইসেন্সিং সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে শেষ মুহূর্তে কার্যক্রম স্থগিত হয়। এরপর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পুনরায় যাচাই-বাছাই শেষে এখন চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হলো।

এর আগেও প্রকল্পটির উৎপাদন শুরুর সময় একাধিকবার পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এতদিন ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, জ্বালানি লোডিংয়ের আগে জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রকল্পটি এখন বাস্তব উৎপাদন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প শক্তি উৎস হিসেবে কাজ করবে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা)। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২০১৫ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ কাজ বর্তমানে চলমান এবং আগামী বছরের শেষ নাগাদ তা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

পুরো প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। সব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এটি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিওডি বাংলা/জা

 
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
তাড়াশে রহস্যজনকভাবে ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
তাড়াশে রহস্যজনকভাবে ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
নেত্রকোনণায় রেজিস্ট্রি সেবায় চরম দুর্ভোগ
ভবন সংকট ও জনবল ঘাটতি নেত্রকোনণায় রেজিস্ট্রি সেবায় চরম দুর্ভোগ
গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তি সম্ভব নয় : স্পিকার
গণতন্ত্র ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তি সম্ভব নয় : স্পিকার